আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ দেশে সেঞ্চুরি করে ফেলেছে পেট্রোল। টানা ন’‌দিন দামবৃদ্ধির জেরে লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম ১০০ ছাড়িয়েছে রাজস্থানে। দেশের বাকি শহরগুলিতেও জ্বালানির দাম একশ’‌র গণ্ডির দোরগোড়ায়। সরকার যুক্তি দিচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামবৃদ্ধির জেরেই দেশের বাজারে বাড়ছে পেট্রোপণ্যের দাম। অক্টোবরের পর থেকে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ৫০%। এই যুক্তি পুরোপুরি সত্যি নয়!‌ তার কারণ, বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পড়লে দেশে জ্বালানির দাম কম হওয়ার কথা। কিন্তু তা কি হয়েছে?‌ অতিমারী আবহে লকডাউনের সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তলানিতে ঠেকেছিল, তখন দেশের বাজারে পেট্রোল–ডিজেলের কম দামের সুফল কি পেয়েছিল আমজনতা?‌ একটু মনে করলেই উত্তর মিলবে। না, পায়নি। 
টানা ৮২ দিন দাম অপরিবর্তিত রেখেছিল তেল কোম্পানিগুলি। ফলত, ওই যুক্তি আংশিক সত্যি। আসল কারণ লুকিয়ে রয়েছে সরকারের কর আদায়ের খেলায়। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম পড়ুক বা বাড়ুক, আখেরে লাভবান হয় সরকার। তেলের সিংহভাগই আমদানি হয় বিদেশ থেকে। আমদানিকৃত তেলের মূল্য কমলে অতিরিক্ত কর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা সরকারের বহুদিনের। কারণ, আয় বাড়ানোর বড় সুযোগ সেটাই। ফলত, লাভের অঙ্ক ধরে রাখতে দেশের বাজারে আর পেট্রোপণ্যের দাম কমায় না তেল কোম্পানিগুলি। উল্টোদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যখন বাড়ে, তার বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয় আমজনতার ওপর। 
হিসেব বলছে, গত বছরের তুলনায় পেট্রোলের ওপর আমদানি শুল্ক লিটারে ১৩ টাকা বাড়িয়েছে কেন্দ্র। অন্যদিকে ডিজেলের ওপর আমদানি শুল্ক লিটারপ্রতি বেড়েছে ১৬ টাকা। অধিক বিক্রয় কর চাপিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা ঘরে তুলতে চাইছে রাজ্যসরকারগুলোও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একমাত্র আমদানি শুল্ক কমালেই দেশের বাজারে পেট্রোপণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সংসদে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনই শুল্ক কমানোর কথা ভাবছে না সরকার!‌       

জনপ্রিয়

Back To Top