সংবাদ সংস্থা
অণু, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসংস্থা ও নন–‌ব্যাঙ্কিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্কট নিরসনে বুধবার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তবে সেই প্যাকেজ নিয়ে আদৌ আশাবাদী নন দেশের প্রথম সারির অর্থনীতিবিদেরা। অনেকেরই বক্তব্য, এই পদক্ষেপ করা উচিত ছিল আরও এক থেকে দেড় মাস আগে। ইতিমধ্যে ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে!‌
সীতারামন তাঁর প্যাকেজে এমএসএমই–‌র জন্য তিন লক্ষ কোটি টাকা বন্ধকহীন ঋণের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া এ ধরনের সঙ্কটগ্রস্ত উদ্যোগগুলির জন্য থাকছে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা সাব–‌অর্ডিনেট ঋণের ব্যবস্থা। নন–‌ব্যাঙ্কিং আর্থিক সংস্থাগুলির জন্য রয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকার আংশিক ঋণ গ্যারান্টি স্কিম। অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণা সম্পর্কে ভারত সরকারের পূর্বতন মুখ্য পরিসংখ্যানবিদ প্রণব সেন বলেন, ‘মঙ্গলবার যা ঘোষণা করা হয়েছে, তা সবই স্বল্পমেয়াদি। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হলে সরকারকে বড় আকারে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশ জুড়ে সাত সপ্তাহের লকডাউন পর্বে ১৮ থেকে ১৯ লক্ষ কোটি টাকার উৎপাদনের ক্ষতি হয়েছে। মানে আয়ও কমেছে। ফলে এখন লকডাউন উঠে গেলেও চাহিদা চাঙ্গা হবে না। সুতরাং চাহিদা বাড়ার জন্য ‘‌স্টিমুলাস’‌ ঘোষণা করতে হবে। 
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক ফিনান্স অ্যান্ড পলিসির অধ্যাপক এন আর ভানুমূর্তি বলেন, অর্থনীতিকে  চাঙ্গা করার জন্য এটা সামগ্রিকভাবে কোনও আর্থিক উদ্দীপক নয়। এই টাকাটা মূলত জোগান দেবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর এই প্যাকেজের কোনও প্রভাব পড়বে না।
প্রণব সেন মনে করেন, লকডাউনের কারণে এমএসএমইগুলি যাতে আর্থিক সঙ্কটে না পড়ে, সেজন্য চেষ্টা করছে সরকার। তবে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন দেখতে হবে, কীভাবে ঘোষণাগুলি কার্যকর করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভানুমূর্তি বলেছেন, ‘একটু দেরি হয়ে গেল। এখন ব্যাঙ্কগুলি কীভাবে সাড়া দিচ্ছে তার ওপরেই প্যাকেজের কার্যকারিতা নির্ভর করবে।’ তিনি বলেন, ‘বন্ধকহীন ঋণ দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হলে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি খুব বড় আকারে এই পরিকল্পনায় অংশ নেবে কিনা সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।’
এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের মুখ্য অর্থনীতিবিদ অভীক বড়ুয়ার মত হল, এর আগে বাজেেট এমএসএমই–‌র জন্য ৪৫ হাজার কোটি টাকার আংশিক গ্যারান্টি স্কিম ঘোষণা করা হলেও তা আদৌ কার্যকর হয়নি। তিনি বলেন, ‘‌এই সব ক্ষেত্রে ঋণ দিতে হলে ব্যাঙ্ক জামিনদার চাইবেই। এই দুই ক্ষেত্র নগদের সঙ্কটে ভুগছে। ফলে কিছু সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। সরকারের গ্যারান্টির মাধ্যমে ব্যবস্থাটা সামাল দেওয়া যেতে পারে।’‌ এমএসএমইদের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার ‘ফান্ড অফ ফান্ডস’ স্কিমে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থাগুলির জন্য ৯০ হাজার কোটি নগদ দেওয়ার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন বড়ুয়া। তবে তাঁর মতে, এই সব সংস্থার কাজের পদ্ধতিতে মৌলিক বদল আনা না হলে সবটাই দুষ্টচক্রে পড়ে যাবে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top