অষ্টমীতে দোকান বন্ধ রেখেও রেকর্ড! পুজোয় কত কোটির মদ খেল বাংলা? বিক্রির শীর্ষে কোন ব্র্যান্ড?
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ : ০৯
শেয়ার করুন
1
8
উৎসবের আনন্দের মাঝেই এবার বাংলায় মদ বিক্রিতে নজিরবিহীন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। শারদোৎসবের দিনগুলোতে দেদার বিক্রি হয়েছে সুরা, যার মধ্যে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার ও দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা চমকে দেওয়ার মতো পরিসংখ্যান সামনে এনেছে।
2
8
মাঝে মহাঅষ্টমীর দিন ‘ড্রাই ডে’ থাকায় সরকারি নির্দেশে দোকানপাট পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল; তবুও মাত্র কয়েকদিনের বিক্রি অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। উৎসবের মরসুমে সরকারের আবগারি দপ্তর যে বিপুল রাজস্ব ঘরে তুলেছে, তা এই তথ্যে একেবারে স্পষ্ট।
3
8
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোচবিহার জেলায় সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৭০টি মদের দোকান থেকে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকার মদ—অঙ্কে যা প্রায় ২৪ কোটি ৭৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। গত বছর অষ্টমীতে দোকান খোলা থাকার পরও যেখানে বিক্রি হয়েছিল ২৪ কোটি ২৩ লক্ষ টাকার মতো, সেখানে এবার এক দিন কম দোকান খুলেই প্রায় ৬৪ লক্ষ টাকা বেশি ব্যবসা হয়েছে।
4
8
বিশেষ করে নবমীর সন্ধ্যায় সুরাপ্রেমীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো; একা ওই দিনই বিক্রি ছাড়িয়ে যায় ৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা। চাহিদার শীর্ষে ছিল দেশি বা বাংলা মদ, যা বিক্রি হয়েছে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার লিটারেরও বেশি। এর পাশাপাশি বিদেশি মদ ও বিয়ারও লক্ষাধিক লিটার করে বিকিয়েছে।
5
8
তবে আবগারি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল সরকারি দোকানের হিসেব; সীমান্ত পেরিয়ে আসাম ও ভুটান থেকে আসা চোরাই মদের অপ্রাতিষ্ঠানিক কারবার যুক্ত করলে প্রকৃত পরিমাণ আরও অনেকটাই বেশি হতে পারত।
6
8
একই চিত্র ধরা পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরেও। গতবারের প্রায় ৩৩ কোটি টাকার রেকর্ডকে বহু পেছনে ফেলে এবার পঞ্চমী থেকে দশমীর মধ্যে এই জেলায় ৫২ কোটি টাকারও বেশি মদ বিক্রি হয়েছে।
7
8
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, অষ্টমীর দিন দোকান বন্ধ না থাকলে এই অঙ্ক অনায়াসেই ৬০ কোটি টাকার গণ্ডি টপকে যেত। এখানেও সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে দেশি মদ—আগের বারের ৩ লক্ষ ৩০ হাজার লিটারের জায়গা দখল করে এবার তা পৌঁছে গেছে ৪ লক্ষ ৬০ হাজার লিটারে।
8
8
উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস আর বিপুল সুরা বিক্রির এই সমীকরণ যেমন রাজ্য কোষাগারকে চাঙ্গা করেছে, তেমনই সমাজ ও উৎসবের ধরন নিয়েও তৈরি করেছে জোরদার আলোচনা।