সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Tollywood: দাদুর সব রীতিই মানি, শুধু পর্দা টাঙিয়ে ছবি দেখানো হয় না, লক্ষ্মীপুজোয় জানালেন গৌরব

নিজস্ব সংবাদদাতা | ২৮ অক্টোবর ২০২৩ ১৫ : ২২


উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো মানেই লক্ষ্মীপুজো। ওপার বাংলার না হয়েও তাঁর বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর জাঁকজমক ছিল দেখার মতো। স্ত্রী গৌরীদেবীর আদলে প্রতিমার মুখ। তাঁকে বেনারসি আর সোনার গয়নায় সাজিয়ে পুজো। গঙ্গাস্নান সেরে লালপাড়, সাদা শাড়ি পরিয়ে দেবীকে নিয়ে আসা। তাঁকে বরণ করে ঘরে তোলার পরে সাজিয়ে তোলা। বিসর্জনের আগে লাল-সাদা ঢাকাই শাড়ি পরিয়ে বিসর্জন। এটাই রীতি ছিল ভবানীপুরের চট্টোপাধ্যায় পরিবারের। আর বসত ভিয়েন। যেখানে উত্তমকুমার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে গরম গরম পান্তুয়া তৈরি করাতেন। 

যে আসনে বসে উত্তমকুমার, পরে তরুণকুমার দেবীর আরাধনা করতেন সেই আসনে বসেন নাতি গৌরব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গী স্ত্রী দেবলীনা কুমার। মহানায়কের বাড়ির পুজোয় উপস্থিত আজকাল ডট ইন। সময়ের দাবিতে রীতি-রেওয়াজ কি একটুও বদলেছে? প্রশ্ন রাখতেই গৌরব বললেন, ‘‘ঐতিহ্য ধরে রাখাটাই আমাদের গুরু দায়িত্ব। ভাঙার কোনও প্রশ্নই নেই। ঠাকুমার আদলে মূর্তি তৈরি হত। এখনও তাই হয়। আগে যা যা ভোগ হত যেমন, খিচুড়ি, তরকারি, ভাজা, শাক, চাটনি, নাড়ু— এখনও সব হয়। পরের দিন দাদু মাছ খাওয়াতেন সবাইকে। এখনও সেই ধারা ধরে রেখেছি আমরা। কেবল পর্দা টাঙিয়ে দাদুর ছবি আর দেখানো হয় না।’’ 




লক্ষ্মীপুজোর রাতে ছোটদের বড় প্রাপ্তি ছিল উত্তমকুমারের ছবি দেখতে পাওয়া। বড় পর্দা টাঙিয়ে মহানায়ক সবাইকে তাঁর দু'টি ছবি দেখাতেন। তখন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবি দেখার অনুমতি পেতেন না কেউ। ওই একটি দিন কারও, কোনও ব্যাপারে নিষেধ নেই। সব থেকে মজার কথা, ছবি দেখতে দেখতে বাড়ির বড়রা ভুলেই যেতেন, উত্তমকুমার তাঁদের পরিজন। জনপ্রিয় দৃশ্য বা গান শুরু হলে তাঁরাই ‘গুরু গুরু’ বলে চেঁচিয়ে উঠতেন। বিষয়টি কিন্তু দারুণ উপভোগ করতেন মহানায়ক। হেসে ফেলতেন পরিবারে লোকজনদের অবস্থা দেখে। কথিত আছে, মহানায়কের নাকি দেবী দর্শন হয়েছিল। তাঁর বাড়ির কার্নিশে নাকি লক্ষ্মীপ্যাঁচা এসে বসে থাকত। এই ঘটনার পরেই তাঁর আয়পয় বেড়ে যায়। নাম, যশ, খ্যাতি, অর্থ, প্রতিপত্তি চারগুণ উপচে পড়ে। মাহানায়কএ নাকি এরপরেই পুজো শুরু করেন।





সেই রেশ টেনে দেবলীনার বক্তব্য, ‘‘মহানায়ক উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো বাঙালির নস্টালজিয়া। ছোট থেকে এই রীতিনীতির কথা শুনে বড় হয়েছি। এখন সেই পুজোর আমিও একজন। ভাবতেই ভাল লাগে। বাড়ির রীতি অনুযায়ী, দেবী প্রতিমার বেনারসী বাড়ির বৌমারা পান। আমি ভাগ্যবান। গতবারের বেনারসী পেয়েছি। সেই শাড়িতে সেজেই এবছর পুজোয় বসছি।’’ আরও অনেক কাজ করেছেন অভিনেত্রী। ভোরে গঙ্গাস্নান সেরে রুপোর কলসিতে গঙ্গাজল এনেছেন। ঘটে স্বস্তিক আঁকা, পুজোর জোগাড়ে বসা, দেবীকে সাজানো— সবেতেই ছিলেন তিনি। সকালে বাবা দেবাশিস কুমারের বাড়ির পুজোর কাজও সেরেছেন সুষ্টুভাবে। 




গৌধূলি লগ্নে প্রতি বছরের মতো এবছরেও পুজোয় বসেছিলেন গৌরব-দেবলীনা। সাদা গরদের জোড় পরে, নিরম্বু উপোস থেকে পুজোয় অংশ নিয়েছেন। মহানায়কের বাড়ির পুজোয় উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মদন মিত্র। বাড়ির মেয়ে-বৌরা এদিন গয়না, বেনারসিতে ঝলমলে। মহানায়কের নাতনি নবমীতা চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘‘একটা সময় আমরা এই পুজোয় আনন্দ করব বলে মুখিয়ে থাকতাম। এখন দায়-দায়িত্ব আমাদের কাঁধে। তাই আনন্দের সঙ্গে এখন সামান্য ভয় জড়িয়ে থাকে। প্রতি মুহূর্তে মনে হয়, সব গুছিয়ে ঠিকমতো করে উঠতে পারব তো?’’ নবমীতা প্রতি বছর ভোগ রান্নার দায়িত্বে থাকেন। কখনও নাড়ু, কখনও লুচি, কখনও খিচুড়ি— কিছু না কিছু রান্না করেন। তাঁর মতে, এই কাজেই তিনি বেশি আনন্দ পান।



বিশেষ খবর

নানান খবর

Earth day 2024 #Aajkaal #EarthDay2024 #EarthDay #aajkaalonline

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া