বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Murshidabad: কাকভোরে সামশেরগঞ্জে ভয়াবহ নদী ভাঙন

Pallabi Ghosh | ২৬ অক্টোবর ২০২৩ ০৬ : ০০


আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জে ফের শুরু হয়েছে গঙ্গা নদীর ভয়াবহ ভাঙন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে তিনটে থেকে উত্তর চাচন্ড গ্রামে শুরু হওয়া গঙ্গা নদীর ভাঙনে বেলা আটটার মধ্যে নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে প্রায় কুড়িটি বাড়ি। আরও প্রায় দশটি বাড়ি বিপদজনক অবস্থায় নদীর উপর ঝুলছে। যে কোনও সময় সেগুলো নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, গত প্রায় দু'বছর ধরে সামশেরগঞ্জ থানা এলাকার ধানঘড়া ,শিবপুর চাচন্ড প্রভৃতি এলাকাতে গঙ্গা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সামশেরগঞ্জে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে বর্ষাকালে এ বছর দীর্ঘ হওয়াতে এবং গঙ্গা নদীতে জল বেশি থাকার জন্য সেভাবে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা যায়নি। সামশেরগঞ্জের যে সমস্ত এলাকাতে ভাঙন হচ্ছিল সেখানে বালির বস্তা ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে।
চাচন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফিরদৌসী খাতুন বলেন, 'উত্তর চাচন্ড ভাঙন হতে পারে এমন কোনও পূর্বাভাস আমাদের কাছে ছিল না। গঙ্গা নদী জনবসতি থেকে কয়েক হাত দূরে ছিল। গত প্রায় তিন মাস আগে ওই এলাকাতে শেষবারের মত ভাঙন হয়েছিল।'
তিনি বলেন, 'আজ সকালে গ্রামবাসীরা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন তখন হঠাৎই উত্তর চাচন্ড গ্রামে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। গ্রামবাসীরা নিজেদের ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার আগেই প্রায় কুড়িটি বাড়ি নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে। আরও দশটি বাড়ি যেকোনও সময় নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।'
গ্রামের বাসিন্দা ওয়াসিকুল শেখ বলেন, '২০২০ সালের ভয়াবহ ভাঙনে এই এলাকার সমস্ত চাষযোগ্য জমি নদী গর্ভের তলিয়ে গেছে। গঙ্গা নদী এখন জনবসতির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দ্রুত যদি ভাঙন বন্ধ না হয় তাহলে গোটা একটি জনপদ নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।' সফি সুলতান নামে এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন,'প্রশাসন যদি দ্রুত ভাঙন বন্ধ না করতে পারে তাহলে উত্তর চাচন্ড গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।' গ্রামবাসীরা আশঙ্কা করছেন গঙ্গা নদীতে জলস্তর নামার সাথে সাথে উত্তর চাচন্ড গ্রামে নদী ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
অন্যদিকে আজ সকাল থেকে ভাঙন শুরু হতেই উত্তর চাচন্ড গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করেছেন। নদীর তীরের কাছাকাছি যে সমস্ত বাড়িগুলো রয়েছে সেখানকার বাসিন্দারা বাড়ি ভেঙে ইট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সরে যেতে শুরু করেছেন।
ফিরদৌসী খাতুন বলেন,' ইতিমধ্যেই আমরা প্রায় ১০০ জন মানুষকে সি বি জে হাইস্কুলে স্থানান্তরিত করেছি। পঞ্চায়েতের তরফ থেকেই তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের সাথে ইতিমধ্যেই আমাদের কথা হয়েছে। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন আজ থেকেই এলাকাতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হবে।'



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর

সোশ্যাল মিডিয়া