রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Hooghly: দু'হাত ছাড়াই স্বাভাবিক, বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবসে দৃষ্টান্ত পান্ডুয়ার ছোট্ট সায়ন

Pallabi Ghosh | ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৮ : ০৪


মিল্টন সেন, হুগলি: কথায় আছে মানুষ অভ্যাসের দাস। সেই কথা যে সত্য তা বাস্তবে প্রমাণ করেছে ছোট্ট সায়ন। দুই হাত নেই, তবু সে আর পাঁচজনের মতোই। লেখাপড়া থেকে খাওয়া দাওয়া সবই চলছে। দুই পা ব্যবহার করে সে অনায়াসেই মিটিয়ে ফেলছে তার দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় চাহিদা। পান্ডুয়া থানার অন্তর্গত পোটবা গ্রামের দীপঙ্কর মুর্মু এবং প্রতিমা মুর্মুর ছোট ছেলে সায়ন। দুই হাত ছাড়াই তার জন্ম হয়েছিল। জন্মের সময় ছেলের হাত নেই দেখে প্রথমে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন মুর্মু দম্পতি। মন খারাপ হয়েছিল তবে ভগবানের সৃষ্টি ধরে নিয়ে সেই মন খারাপ ভুলেছেন। তবে থেমে থাকেননি প্রতিমা দেবী। আর পাঁচ জনের মতো ছেলেকে সব কাজে পারদর্শী করে তুলতে করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রম। শিখিয়েছেন পা ব্যবহার করে যাবতীয় কাজ করা। নিয়মিত অভ্যাস করিয়েছেন। বর্তমানে দৈনন্দিন কাজে সকলের মতোই সমান পারদর্শী সায়ন। এখন সে স্থানীয় রানাগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। এখন সে নিয়মিত দাদার সঙ্গে স্কুলে যায়। আবার কখনও সময় পেলে মা তাকে স্কুকে দিয়ে আসেন। পড়াশোনায় বেশ ভাল, তাই স্কুলেও বেশ নাম সায়নের। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর ভক্ত সে। ভালবাসে ফুটবল খেলা। খেলা দেখার পাশাপাশি পড়াশোনার প্রতি তার খুব ঝোঁক। তার পর বিষয় বাংলা, আর সেটা পড়তেও খুব ভালবাসে সে। প্রতিমা দেবীর ইচ্ছা বড় হয়ে তার ছেলে শিক্ষকতা করুক। সব সময় হাসিখুশি থাকা সায়ন বলে, "আগে পড়া শেষ করি তারপর তো ওসব নিয়ে ভাবব।"
প্রতিমা দেবী বলেছেন, হাত না থাকায় ছোট বেলায় প্রায় কোনও কাজই করতে পারত না সায়ন। তিনি তাকে শিখিয়েছেন, কীভাবে পায়ের আঙুল দিয়ে পেন ধরে লিখতে হয়। পায়ের আঙুলে চামচ ধরে কী করে খেতে হয়। ছোটোবেলা থেকে অভ্যাস করিয়েছেন। ছেলেকে শেখাতে অনেক পরিশ্রম করেছেন। এখন সব কাজ সায়ন নিজেই করতে পারে। তবুও তার চিন্তা হয়, হাত নেই তাই সায়ন বড় হয়ে অনেক কাজ নিজে করতে পারবে না। অন্যের ভরসায় থাকতে হবে। তবে তিনি চান আরও ভাল পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে সায়ন শিক্ষক হোক।



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া