বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

EXCLUSIVE: ‘সত্যকাম'-এর মতো চরিত্রে আরও কাজ করতে চাই: অর্জুন চক্রবর্তী

শ্যামশ্রী সাহা | ২৩ নভেম্বর ২০২৩ ০৩ : ২১


‘অনুরাগের ছোঁয়া’য় তিনি ‘দীপা’র বন্ধু। ধারাবাহিকের টিআরপি বাড়ানোর দায়িত্ব নিয়ে ছোটপর্দায় আবার অর্জুন চক্রবর্তী। পর্দায় ফ্যামব্লয়েন্ট। বাস্তবে প্রেমের গুঞ্জন নেই কেন? সন্ধানে শ্যামশ্রী সাহা

প্রশ্ন: ‘দেবী চৌধুরাণী’র জন্য অস্ত্রশিক্ষা। শুটিংও শুরু হবে। এত ব্যস্ততার মধ্যে আবার ধারাবাহিকে?
অর্জুন: এখন অস্ত্র শেখার জন্য খুব বেশি সময় দিতে হচ্ছে না। শুটিং শুরু হলে ব্যস্ততা বাড়বে। এর মাঝে একটু সময় পেয়ে গেলাম। ধারাবাহিক মানে তো রোজের কাজ। বলা আছে, ভাল ছবির কাজ এলে বা শুটিং শুরু হলে তখন বিরতে নিতে হবে। 

প্রশ্ন: ‘গানের ওপারে’র পর ‘জামাইরাজা’। এতদিন পর ধারাবাহিকে ফিরে কী বুঝছেন?
অর্জুন: বেশ ভালই লাগছে। এটা তো অন্য রকমের চ্যালেঞ্জ। রোজের কাজ। ক্রিয়েটিভিটির সুযোগও আছে। বেশ ভাল পরিবেশ।

প্রশ্ন: ধারাবাহিকে অনেক পরে ঢুকে হাল ধরতে হচ্ছে, ডাঃ অর্জুন চক্রবর্তী কী করবেন?
অর্জুন: অর্জুন একজন ফ্ল্যামবয়েন্ট, ফান লাভিং, জেন্টল ক্যারেক্টার। অর্জুন থাকলে আড্ডা জমে যায়। স্কুলে অর্জুন দীপার সিনিয়র ছিল। বিদেশে জাক্তারি পড়াশোনা। দেশে ফিরে দীপার সঙ্গে দেখা করতে চায়। সেই জন্য একটা রি-ইউনিয়নের প্ল্যানও করে। অর্জুন চায় সেখানে দীপা আসুক। সব মিলিয়ে অর্জুনকে ঘিরে গল্পে একটা টুইস্ট আসবে।

প্রশ্ন: বাংলা সেরা হয়েও ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ রেটিং চার্টে এখন পিছিয়ে, টিআরপি বাড়ানোর দায়িত্ব আপনার কাঁধে, বেশ চাপের তো?
অর্জুন: খুবই চাপের। ছবির ক্ষেত্রে যেমন বক্সঅফিসের চাপ থাকে, ছোটপর্দার ক্ষেত্রেও টিআরপির চাপ থাকে। টিআরপি থেকেই বোঝা যায়, গল্পের কোন দিক দর্শকের ভাল লাগছে। অভিনেতা হিসাবে আমাকে আমার কাজটা করতে হবে। চিত্রনাট্য যা চাইছে সেটা ফুটিয়ে তুলতে হবে। এর বেশি আর কী করতে পারি?

প্রশ্ন: বড়পর্দা থেকে আবার ছোটপর্দায় ফেরা নেগেটিভ রিঅ্যাকশন হতে পারে। ভেবেছেন?
অর্জুন: আমার সামনে তো কিছু বলতে শুনিনি। পিছনে কে কী বলছে তা তো জানি না। লোকজনের কথা শুনে কখনও কেরিয়ার অ্যানালিসিস করি না। যখন যেটা মনে হয়েছে করেছি। আমার সব মাধ্যমেই অভিনয় করতে ভাল লাগে।

প্রশ্ন: এসভিএফ-এর প্রয়োজনা বলেই ধারাবাহিকে? অন্য প্রযোজনা সংস্থায় দেখা যাবে?
অর্জুন: কেন না? দেখা যেতেই পারে।

প্রশ্ন: কেমন চরিত্রে কাজ করতে চান?
অর্জুন: অবশ্যই মেলসেন্ট্রিক। এখন তো ধারাবাহিকের গল্প অনেক বদলে গিয়েছে। ধারাবাহিক মানে শুধুই শাশুড়ি-বৌমার ঝামেলা তা তো নয়। নায়ক-নায়িকার সঙ্গে বাবা, কাকা, মামা চরিত্ররাও প্রাধান্য পাচ্ছে। এটা তো ছবি নয় যে অল্প দিনের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। ধারাবাহিকে চরিত্রেরও বদল হচ্ছে। যেমন ‘জামাইরাজা’তে হয়েছে। এখানে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। সেরকম চ্যালেঞ্জিং চরিত্র পেলে কাজ করব।

প্রশ্ন: আপনার নায়িকা স্বস্তিকাকে কেমন লাগল?
অর্জুন: খুব ডেডিকেটেড। দিব্য আর স্বস্তিকার জুটি তো হিট। আমি সবে ঢুকেছি। এক বছর পরে বোঝা যাবে, আমি কী করতে পারলাম। 

প্রশ্ন: ডাঃ অর্জুনের সঙ্গে অর্জুনের কোনও মিল পেলেন?
অর্জুন: কোনও মিল নেই। এতটা মিশতে পারি না। এত মজা করা বা আড্ডার মধ্যমণিও হতে পারি না।

প্রশ্ন: আপনি চুপচাপ?
অর্জুন: একদম। 

প্রশ্ন: তিনটে মাধ্যমেই কাজ করলেন, পার্থক্য কী বুঝলেন?
অর্জুন: ছোটপর্দায় প্রস্তুতির সময় কম। এমনও হয়েছে দৃশ্যে যাওয়ার আগে চিত্রনাট্য পেয়েছি। পরিচালক, অভিনেতাদের অন স্পট অনেক কিছু ইমপ্রোভাইজ করতে হয়। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। খুব কম সময়ে অনেকগুলো পর্বের কাজ করতে হয়। ক্রিয়েটিভ স্যাটিসফ্যাকশন সব সময় পাওয়া যাবে এমন নয়।

প্রশ্ন: মঞ্চে আপনাকে আবার দেখা যাবে?
অর্জুন: দু’বছর কাজ করেছি। তারপর আর সময় হয়নি। সত্যি কথা বলতে, মঞ্চ খুব একটা আমাকে টানেনি। মঞ্চ মানেই বড় কমিটমেন্ট। রিহার্সালের জন্য অনেক সময় দিতে হয়। সেটা আমি পারব না। তাই ওই দিকটা এক্সপ্লোর করতেও চাইছি না।

প্রশ্ন: আপনার পছন্দের জনার কোনটা?
অর্জুন: নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করতে খুব ভাল লাগে। কিন্তু খুব একটা পাই না। ‘সত্যকাম’-এর মতো চরিত্রে আরও কাজ করতে চাই। অ্যাকশনও ভাল লাগে।

প্রশ্ন: তরবারি চালানো কতটা শিখলেন?
অর্জুন: খুব ইন্টারেস্টিং। আমার তো অ্যাকশন ভালই লাগে। সবাই বলছেন, বীভৎস লুক হয়েছে। চেনা যাচ্ছে না। এটা শুনে বেশ মজা লাগছে। তলোয়ার খেলা বা ঘোড়ায় চড়া এর আগে কখনও করিনি। নতুন জিনিস শিখছি।

প্রশ্ন: খুব ঝুঁকির... আঘাত লাগতে পারে...
অর্জুন: তা তো আছেই। তবে এই অস্ত্রগুলো অতটা ধারালো নয়, একটু ভোঁতা। তবে জোরে কপালে লাগলে ফেটে যেতে পারে। যাঁদের সঙ্গে অ্যাকশন করব দু’পক্ষকেই টেকনিক্যালি সাউন্ড হতে হবে। 

প্রশ্ন: অনেকদিন পর আবার বাবার সঙ্গে পর্দাভাগ করছেন, কেমন লাগছে?
অর্জুন: শুভ্রজিৎ মিত্রের ‘অভিযাত্রিক’-এর পর আবার ওঁর পরিচালনাতেই আমরা একসঙ্গে। বাবার সঙ্গে কাজ মানে কোনও চাপ নেই। কাজ করাও সহজ হয়ে যায়। বাবা খুব ‘ডাউন টু আর্থ’। সেটে মজা করে সবাইকে মাতিয়ে রাখেন।

প্রশ্ন: অবন্তিকা বড় হয়ে গিয়েছে, বাবাকে পর্দায় দেখে কী বলে?
অর্জুন: এখন বুঝতে পারে, বাবা অভিনেতা। আমিও মোবাইলে ওকে কিছু দৃশ্য দেখাই। আমার ‘গুপ্তধন’ সিরিজটা ওকে দেখানোর ইচ্ছে আছে।

প্রশ্ন: আপনার নামে গুঞ্জন নেইই, ‘হ্যাপিলি ম্যারেড’ ?
অর্জুন: হ্যাঁ বলতে পারেন। কারও সঙ্গে ভাল কেমিস্ট্রি হলে গসিপ তৈরি হয়ে যায়। এরকম কিছু কখনও হয়নি। আমার বউ আমার বিগেস্ট সাপোর্টার। কী হচ্ছে না হচ্ছে সবটাই ও জানে।

প্রশ্ন: কখনও পুরো পরিবারকে একসঙ্গে দেখা যাবে?
অর্জুন: এটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। একটা বিজ্ঞাপনে হয়েছিল। ছবিতে হলে অনেকে আবার বলতে পারেন ‘চক্রবর্তী ফ্যামিলি প্যাকেজ’! (জোরে হাসি)



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর

সোশ্যাল মিডিয়া