শুক্রবার ১২ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

EXCLUSIVE: এ আর রহমানের ‘কারার ওই লৌহকপাট’-এ বাংলাদেশ উত্তাল, কী বলছেন কাজী অরিন্দম, খিলখিল কাজী, জয়তী, রাঘব, মানসী?

নিজস্ব সংবাদদাতা | ০৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৭ : ৩৫


সদ্য প্রকাশ্যে ‘পিপা’র গান। ছবিতে এ আর রহমান কাজী নজরুল ইসলামের দেশাত্মবোধক গান ‘কারার ওই লৌহকপাট’ ব্যবহার করেছেন। একেবারে সুর বদলে। নিজের মতো করে। তাতে কণ্ঠ দিয়েছেন একদল বাঙালি শিল্পী। তাঁরা রাহুল দত্ত, তীর্থ ভট্টাচার্য, পীযূষ দাস, শ্রয়ী পাল, শালিনী মুখোপাধ্যায়, দিলাশা চৌধুরী। একদল বাঙালি কী করে কাজী নজরুল ইসলামের পরিবর্তিত গান বিনাবাক্যে গাইলেন? এই নিয়ে প্রতিবাদে উত্তাল বাংলাদেশ। পড়শি দেশের দাবি, তাদের জাতীয় কবির মর্যাদা এতে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্রমশ উত্তপ্ত শহর কলকাতাও। আজকাল ডট ইন বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে কাজী নজরুল ইসলামের নাতি কাজী অরিন্দম, নাতনি খিলখিল বেগমের সঙ্গে। মতামত জানিয়েছেন জয়তী চক্রবর্তী, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, মানসী মুখোপাধ্যায়ও। কী বলছেন তাঁরা?

দাদুর গানেরও কিন্তু কপিরাইট আছে
ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কাজী অরিন্দম। আজকাল ডট ইনের থেকে তিনি প্রথম জানতে পারেন। এবং জেনেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন কাজী অনিরুদ্ধর পুত্র। তাঁর দাবি, ‘‘অনেকেই মনে করেন, দাদুর কাজের বোধহয় কোনও কপিরাইট নেই। তাই যা খুশি, যেমন খুশি করা যায়। তা কিন্তু নয়। দাদুর এই গানের সমস্ত নথিপত্র, সবিস্তার তথ্য আমাদের কাছে আছে। কাজী নজরুল ইসলামের গান কী করে এভাবে বদলে গেল?’’ কাউকে অসম্মান না করে তিনি আরও বলেছেন, ‘‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান বিন্দুমাত্র পরিবর্তিত হলে তাই নিয়ে হইচই পড়ে যায়। একই ঘটনা কাজী নজরুল ইসলামের গানের সঙ্গে ঘটলে সেটিও সমান অপমানের। আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ বৈঠকে বসব।’’

দাদুর এই অসম্মানে অপমানিত
একই প্রতিক্রিয়া খিলখিল কাজির। তিনি কাজী অরিন্দমের জাঠতুতো দিদি। কবির নিজের নাতনি। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের সুরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তারকা থেকে সাধারণ মানুষ। কাজী অরিন্দমের মাধ্যমে আজকাল ডট ইনকে তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের দাদুর যাবতীয় কাজের সত্ত্ব তাঁদের কাছে রয়েছে। কেউ কোনও কাজ করতে চাইলে তাঁদের অনুমতি নিতে হবে। সে সব না করে এভাবে এক জাতীয় কবির গান নিজের মতো করে বদলে দেওয়া কাজী নজরুল ইসলামকে অপমান করা। দাদুর অসম্মানে অপমানিত তাঁরাও।

‘মসককলি’র বদল রহমান নিতে পারেননি
কাজী অরিন্দম, জয়তীর মতো রাঘবও আজকাল ডট ইনের থেকে এই খবর প্রথম জেনেছেন। গানটি শোনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া তাঁর। সাফ বলেছেন, ‘‘রহমান স্যরকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। খুব শ্রদ্ধা করি। কিন্তু ওঁর এই আচরণ মেনে নিতে পারছি না। একেবারেই ঠিক করেননি। আমি মর্মাহত। কী করে কাজী নজরুল ইসলামের গান সম্পূর্ণ বদলে নিজের মতো করে নিলেন!’’ তিনি রবীন্দ্র প্রসঙ্গের তুলনা টেনে বলেছেন, ‘‘এটা কিন্তু কবিগুরু বা বিদ্রোহী কবির গান বলে নয়। কোনও গীতিকার বা সুরকারের গানকেই এভাবে নিজের ইচ্ছেমতো গানে বদলে ফেলা যায় না।’’ উদাহরণ হিসেবে তিনি রহমানের সুর করা ‘মসককলি’ গানের কথাও বলেছেন। গানটি তনিশ্ক বাগচী সামান্য বদলে গেয়েছিলেন। তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন সুরকার। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। গায়কের পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘আজ তিনি সেই কাজ নিজে কী করে করলেন?’’ রাঘবের শ্লেষ, ‘‘ইদানীং রহমান স্যরের কাজ আগের মতো প্রশংসা পাচ্ছে না। ফলে, প্রচারের আলো থেকেও দূরে। নিজের চর্চা বাড়াতেই এরকম একটি পদক্ষেপ করেননি তো?’’

কবির গানই আমার গান
একটু ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী জয়তী চক্রবর্তী। একাধিক যুক্তি তাঁর কথায়। তিনি বলেছেন, ‘‘এক, এ আর রহমান আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গীতস্রষ্টা। তাই তিনি যা করেছেন নিশ্চয়ই অকারণে করেননি। দুই, ছবির দৃশ্য অনুযায়ী গানের পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়ে থাকতে পারে। সেটা হয়তো আমরা জানি না। তিন, প্রত্যেক সুরকারের নিজস্ব স্বাধীন চিন্তা আছে।’’ তবে জয়তীকে রহমানের এই সুর ছোঁয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘এই গান আমায় একটুও ছোঁয়নি। আমার কান, মনকে স্পর্শ করতে পারেনি। তাই আগামীতে আমি কবির সুর করা গানই গাইব।’’



রবীন্দ্রসঙ্গীতে এমনটা হত?
পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েছেন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে মানসী মুখোপাধ্যায়। প্রয়াত গায়ক অসংখ্য নজরুলগীতি গেয়েছেন। তাঁর কন্যাও বাবার পথেই হেঁটেছেন। সেই জায়গা থেকেই বিষয়টি একেবারে মেনে নিতে পারছেন না তিনি। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আজকাল ডট ইনের কাছে। বলেছেন, ‘‘এ আর রহমান কী যা ইচ্ছে করতে পারেন? নাকি কাজী নজরুল ইসলাম এতটাই সহজলভ্য হয়ে পড়েছেন, যে তাঁকে নিয়ে এরকম করে যায়?’’ তাঁর আরও ক্ষোভ, ‘‘রবীন্দ্রসঙ্গীতের সামান্য বদল ঘটলেই শোরগোল পড়ে যায়। কাজী নজরুল ইসলামের গানকে এভাবে বদলে ফেলা হল, তাই নিয়ে প্রতিবাদ কই?’’ তাঁর মতে, তিনি একা নন, যাঁরা নজরুলগীতি গান তাঁদের প্রত্যেকের অপমান এটা। তিনি আরও অবাক, এই গান বাঙালিরা গেয়েছেন। তাঁরা তো কাজী নজরুল ইসলামকে চেনেন। তা হলে তাঁরা কেন কথা বললেন না? রহমানের সুরে গাইতে পারছেন বলে সবটা মুখ বুঁজে মেনে নিলেন!



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর

সোশ্যাল মিডিয়া