‘আমি ঝিঁঝি পোকার ডাক্তার হব/ টুল নিয়ে কচুবন চেম্বার!’ বা ‘সূর্য উঠলে পাহাড়টা দাঁত মাজে।/ সাদা থেকে হলুদ হয়ে যায়।/ নীল রঙের বৃষ্টিটা মাউথওয়াশ।/ হলুদ ফুলগুলো জিলিপির মতো,/ সুতো দিয়ে বাঁধা।/ ব্রেকফাস্টে পোহা আর মেঘ।/ বদ্রীনাথে নীলকন্ঠ পাহাড় সিঙাড়া/ নদীটা এক কাপ চা ।/ রুকু চা খায় ।’—চেতনার দরজায় ঢেউ তোলা সব কবিতা। লিখেছে ১৬ বছরের বিনায়করুকু। বিনায়করুকু অটিজিম নামক একটি জিন ঘটিত বিশৃঙ্খলায় আক্রান্ত। মনের আনন্দে সে কবিতা লেখে, ছবি আঁকে। সেই সব কবিতা ও ছবির সমন্বয়ে ‘বিনায়করুকুর ডাইরি’ প্রকাশিত হল ২ রা এপ্রিল, বিশ্ব অটিজিম সচেতনতা দিবসের প্রাক্কালে বর্ধমানের ‘স্বাধ্যায়’–তে বিশেষ শিশুদের হাত দিয়ে (প্রকাশক কবিতা আশ্রম ট্রাস্ট)। রুকু লিখেছে, ‘আমি অনেক তারার নাম জানি।/ একটা থালায় একসাথে থাকলে সীতাভোগ।/ আলাদা থাকলেই ওই জিলিপি আর চন্দ্রপুলি ।/ Galaxy-টা ছানার পায়েস!’ অসাধারণ চিত্রকল্প আর কল্পনাশক্তি। বাস্তব, পরাবাস্তব ও অতিবাস্তবের অপূর্ব সমন্বয়। বইয়ের মুখবন্ধে কবি বিভাস রায়চৌধুরী লিখেছেন, ‘রুকুর কবিতা পড়তে পড়তে মনে হয় আমাদের মানবসভ্যতা অনেক আগ্রাসন দিয়ে নির্মিত, রুকু তা অস্বীকার করেছে... রুকুর ছবিগুলোতে চোখ রাখি । সেগুলোও আমাকে অন্য চিন্তার দিকে নিয়ে যায়। রুকুর আই কিউ কোথায় কম বুঝতে পারি না।’ প্রকাশক কাকলি রায়চৌধুরী জানান, ‘রয়্যালটি অংশ বাদে বই বিক্রির অর্থ দান করা হবে বিশেষ শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন এক বা একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে।’

জনপ্রিয়

Back To Top