মোবাইল কালচার ও সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে ‌বাঙালির আড্ডার সেই সোনালি দিন হয়ত আর নেই। চায়ের দোকান, পাড়ার রক, বটতলা কিংবা পাড়ার ক্লাব, ছাদ, মাঠ–‌ময়দান হয়ত তেমন আড্ডা–‌মুখর হয় না। তবু বাঙালিকে একেবারে আড্ডাচ্যুত করা সহজ কথা নয়। কফিহাউসে তো আছেই, আছে নানা জায়গায়। আর আড্ডা যে আছে, তার প্রমাণ আড্ডা নিয়ে নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশ। দীপ্তেন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকার সাম্প্রতিক সংখ্যাটি ভরপুর আড্ডায় মোড়া। নবীন–প্রবীণ কবি লেখকেরা একসঙ্গে কলম ধরেছেন লেখার অক্ষরে আড্ডা জমাতে। নিজের স্মৃতির পাতা উল্টে হারানো নস্টালজিক আড্ডাকে বর্ণে সাজিয়েছেন পঙ্কজ সাহা। ঋত্বিক ঠাকুরের ‘‌সুন্দরের আড্ডায়’‌ অন্যরকম ভাললাগা গ্রাস করবে পাঠককে। সত্তর দশকের উত্তাল সময়ে দিনযাপনের ইতিবৃত্ত লিখেছেন কানু মজুমদার। কবিতার পাতায় নজর কাড়ে। লিখেছেন তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, রতনতনু ঘাঁটি, অনন্ত দাস, বিকাশ ভাওয়াল, অমিয়কুমার সেনগুপ্ত প্রমুখ। দেখা ও শেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে মানিককৃষ্ণ রায়ের পূর্ব সিকিমের ইচ্ছে গাঁও দারুন। সব মিলিয়ে আড্ডার মৌতাত পাঠকেরা উপভোগ করবেন। বলা যায় না, এইসব লেখালিখি পড়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে ফোন ফেলে আড্ডায় মেতেও উঠতে পারেন।

জনপ্রিয়

Back To Top