করোনা আমাদের বিহ্বল করে রেখেছে। তাই অন্য বেশ কিছু বিষয় আমাদের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। ২০০৬ সালে মুম্বইকে ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সেন্টার করার প্রস্তাব দিয়েছিল মনমোহন সিংয়ের সরকার। অর্থনীতিতে মনমোহনের ব্যুৎপত্তি আর আর্থিক রাজধানী হিসেবে মুম্বইয়ের অবস্থান প্রশ্নাতীত। নিছক আবেগ নয়, ভৌগোলিক কারণও ছিল সিদ্ধান্তটির মূলে। কারণ, লন্ডন আর সিঙ্গাপুরের মতো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সেরা দু‌টি শহরের ঠিক মাঝামাঝি মুম্বইয়ের অবস্থান। এই আন্তর্জাতিক পরিষেবা কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারলে শুধু মুম্বই শহরেই এক লক্ষ চাকরির সংস্থান হতে পারে, পরোক্ষ কর্মসংস্থান আরও কয়েকগুণ নিশ্চিতভাবেই। শিবসেনার নেতৃত্বে জোট মহারাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করতেই চুপিসারে প্রতিশোধ নিল মোদির সরকার। ২৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিক পরিষেবা কেন্দ্রটি মুম্বই থেকে সরিয়ে গান্ধীনগরে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা হয়েছে সরকারি গেজেটে। ভারতের তাবড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর মুম্বই, বিশ্বখ্যাত ব্র‌্যান্ডগুলি মুম্বইয়ে আসতে পারলে বর্তে যায়— এমন একটি শহরের তুলনায় গান্ধীনগরের পরিকাঠামো বলতে কিছুই নেই। বান্দ্রা–কুর্লা কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক পরিষেবা কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ জমি চটজলদি বুলেট ট্রেন প্রকল্পকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। গুজরাটের শ্রীবৃদ্ধি হলে আপত্তি নেই, কিন্তু অন্য রাজ্যের মুখের গ্রাস কেড়ে নিতে হবে?‌ এইভাবে?‌ গত ৬ বছরে গুজরাটকে তুলে ধরতে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে মোদি সরকার। বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সফরসূচিতে গুজরাট বাঁধা। কেন?‌ মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই কিছু নয়। যুক্তিহীন, স্বৈরাচারী, আঞ্চলিকতাবাদী এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে। আরবিআই, সেবি, এনএসই–র সদর দপ্তর আজও মুম্বইয়ে। গুজরাটে নিয়ে যাবেন মোদি?‌ বলা যায় না। কলকাতা থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর সরানো হচ্ছিল। এবার বোধহয় মুম্বইয়ের পালা।

জনপ্রিয়

Back To Top