তুফান মণ্ডল, কামারপুকুর: রসগোল্লার মতো এবার সাদা বোঁদের জিআই স্বীকৃতি চান কামারপুকুরের মানুষ। তাঁদের দাবি, ‘‌কামারপুকুরের সাদা বোঁদে অনন্য। স্বাদ সম্পূর্ণ মৌলিক।’‌ 
এই সাদা বোঁদে প্রথম কে বা কবে তৈরি করেছিলেন সে–ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। তবে জানা গেছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিবার প্রথমে এই বোঁদে তৈরি করত। ১২০০ বঙ্গাব্দ নাগাদ মধুসূদন মোদক নামে এক ময়রা এই বিশেষ ধরনের সাদা বোঁদে তৈরি করতেন। মধুসূদনবাবুর ছেলে দুর্গাদাসের সখা ছিলেন বালক গদাধর ওরফে শ্রীরামকৃষ্ণ। দুর্গাদাসের বাড়ি গেলেই সাদা বোঁদে খেতেন। দুর্গাদাসের পর তাঁর ছেলে সত্যকিঙ্করও বোঁদের ভাল কারিগর ছিলেন। শুধু শ্রীরামকৃষ্ণই নন, সারদাদেবীও সত্যকিঙ্করের দোকানের সাদা বোঁদে খেতে ভালবাসতেন। তাই কামারপুকুরের মোদক পরিবারের সঙ্গে এই সাদা বোঁদের নাম জড়িয়ে আছে। এখন অবশ্য কামারপুকুরের প্রায় প্রতিটি দোকানেই এই সাদা বোঁদে পাওয়া যায়। কারণ সারা বছর ধরে হাজার হাজার পর্যটক কামারপুকুর–‌জয়রামবাটিতে আসেন। আর তাঁরা সকলেই এক প্যাকেট এই সাদা বোঁদে অবশ্যই সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। না হলে যেন শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মস্থান দর্শন অসম্পূর্ণই থেকে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা কামারপুকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যামহাপীঠের পরিচালন সমিতির সভাপতি জগবন্ধু ঘোষ জানালেন, ‘‌অতিথি এলে এখানকার প্রায় প্রতি বাড়িতেই সাদা বোঁদে দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। আসলে এটার সঙ্গে কামারপুকুরের মানুষের একটা ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। এই বোঁদে খাওয়াতে না পারলে মনে হয় আপ্যায়ন ঠিকমতো হল না।’‌ বিবেকানন্দ মঠের সন্ন্যাসী স্বামী চিৎরূপানন্দজি মহারাজ বলেন, ‘‌আমরা ঠাকুরের ভোগে বোঁদে দিয়ে থাকি। বোঁদে না থাকলে মনে হয় যেন ভোগ অসম্পূর্ণ রয়ে গেল।’‌ মধুসূদন মোদকের বংশধর মোহন মোদক, তরুণ মোদক, বিদ্যুৎ মোদকরা জানালেন, ‘‌আমরা সবসময়ই রমা কলাইয়ের বেসন আর চালের গুঁড়ি দিয়ে এই বোঁদে তৈরি করি।’‌ এ বিষয়ে গোঘাট–২ নং বিডিও অরিজিৎ দাস জানালেন, এই সাদা বোঁদে কামারপুকুর ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তাই কামারপুকুরের ব্যবসায়ীদের এই বোঁদের জিআই রেজিস্ট্রেশন দাবির অধিকার রয়েছে।

 

সাদা বোঁদে তৈরি হচ্ছে কামারপুকুরে। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top