আজকালের প্রতিবেদন: ‘‌জনপ্লাবনের’‌ পর ‘‌জলপ্লাবন’‌!‌ দশমী পর্যন্ত ভাল কাটলেও জোড়া ঘূর্ণাবর্ত, নিম্নচাপ অক্ষরেখার জেরে একাদশী থেকে শুরু হল ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। ফলে, জল জমল কলকাতার বহু জায়গায়। অনেকেই ফাঁকায় ফাঁকায় প্রতিমা দেখার জন্য একাদশীর দিনটা বেছে নেন। তাঁদের ইচ্ছেতেও জল ঢালল বৃষ্টি। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি চলবে আজ, বৃহস্পতিবারও। তবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। শুক্রবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সপ্তাহের শেষে ফের ঝলমল করবে শরতের নীল আকাশ। 
বুধবার সকাল থেকেই একটানা বৃষ্টি শুরু হয় কলকাতা–‌সহ দক্ষিণবঙ্গে। সারা দিনেও মেঘ কাটেনি। জল জমা কলেজ স্ট্রিটকে কিছুক্ষণের জন্য মনে হচ্ছিল যেন নদী। জল থইথই বিবাদী বাগ, ধর্মতলা, চাঁদনি চক, ঠনঠনিয়া, এম জি রোড, মুক্তারাম বাবু স্ট্রিট–‌সহ একাধিক রাস্তা। পুজোর সময় রাস্তার ধারে বহু অস্থায়ী খাবারের স্টল খোলা হয়। সেখানে পড়ে থাকা প্লাস্টিক ও থার্মোকলের বাসনপত্র নর্দমাগুলির মুখে গিয়ে আটকে যাওয়ায় জল নামতে দেরি হয়েছে। কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত জল নামানোর কাজ শুরু করেন। দীঘায় এদিন বৃষ্টি হয় ৯৮.‌০ মিলিমিটার, কলকাতায় ৫৮.‌০, দমদমে ৩৮.‌০, হলদিয়ায় ২২.‌০। তাপমাত্রাও নেমে যায় বেশ খানিকটা। 
একাদশীর দিন তাই রাস্তায় যানবাহন একটু কম ছিল। যানবাহনের গতিও ছিল ধীর। জলের তলায় ডুবে যাওয়া রাস্তায় গাড়ি এগিয়েছে সন্তর্পণে। হাওড়ার বিভিন্ন রাস্তাতেও হাঁটুজল জমে যায়। এদিন অনেক পুজোর বিসর্জন ছিল। রাস্তায় জল জমে থাকায় বহু পুজো উদ্যোক্তা নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা নিয়ে বেরোতে পারেননি। প্লাস্টিকের চাদরে ঢেকে ভাসানের জন্য প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক পুজোর ভাসানের শোভাযাত্রা বাতিল হয়। 
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আজ, বৃহস্পতিবারও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে। উত্তরবঙ্গ থেকে গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গ হয়ে ওডিশা পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা দানা বেঁধেছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ওডিশায় দানা বাঁধা আর একটি ঘূর্ণাবর্ত। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ও সংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে আরেকটি ঘূর্ণাবর্ত দানা বেঁধে রয়েছে। এর প্রভাবেই এদিনের বৃষ্টি। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তর ভারতে বর্ষাবিদায় শুরু হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই মৌসুমি হাওয়ার প্রভাব রয়ে গেছে এ রাজ্যে। জোড়া ঘূর্ণাবর্তের জেরে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে।
 

জনপ্রিয়

Back To Top