আজকাল ওয়েবেডেস্ক:‌ প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে তৃণমূল অন্দরে ক্ষোভ চরমে। প্রকাশ্যে মুখ খুলে দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন একাধিক নেতা। পিকে–কে নিয়ে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে ফের প্রকাশ্যে এনেছেন শিবপুরের তৃণমূল বিধায়ক জটু লাহিড়ি। শনিবার তিনি বলেন, ‘‌পিকে–র মতো ভাড়াটে দিয়ে সফলতা পাওয়া যায় না।’‌ আর ভোটকুশলীকে নিয়ে দলের অন্তর্কলহকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। 
লোকসভা ভোটে খারাপ ফলাফলের পর নির্বাচনী রণকৌশল সাজাতে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থাকে নিযুক্ত করে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। তারপর থেকেই বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দেন প্রশান্ত। কিন্তু সম্প্রতি তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন। সবার প্রথম মুখ খোলেন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামী। বলেছিলেন, ‘‌কোনও রাজনৈতিক দল কোনও কন্ট্র্যাক্টর সংস্থাকে দিয়ে চালাতে গেলে সেই সংগঠনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।’‌ তৃণমূলের এই গোষ্ঠী–কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলছে বিজেপি। পিকের বিরুদ্ধে মুখ খুলে দল ছেড়ে পদ্মশিবিরে যোগ দিয়েছেন মিহির গোস্বামী। ক্ষোভ উসকে দিয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেছেন, ‘‌পিকে কে? দলের পদাধিকারী না বেতনভুক কর্মচারী?’‌ প্রশান্ত কিশোরকে নিশানা করে ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ শীলভদ্র দত্ত বলেন, ‘‌‘‌একটা বাজারি কোম্পানি, বাইরে থেকে আসা একটা সংস্থা, তার কর্মীরা এখন আমাদের রাজনৈতিক জ্ঞান দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করার পরে ওই সংস্থার ছেলেরা এসে আমাকে বলছে, ‘‌ভোট নিয়ে ভাবতে হবে না। আমরা তো জেতানোর জন্য এসেছি।’ এটা কি দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ?‌ বাংলা আর কেরলে মানুষ রাজনীতি করেন আবেগ দিয়ে।’‌’‌‌ অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুর্শিদাবাদের হরিহর পাড়ার তৃণমূল বিধায়ক নিয়ামত শেখ। জনসভায় তিনি বলেন, ‘‌সর্বনাশের মূলে পিকে। প্রশান্ত কিশোর কে?‌ উনি কি দলের নেতা?‌ কোন পদে রয়েছেন?‌ যিনি দলের কেউ নন, তাঁর কথা শুনব কেন?‌’‌
সম্প্রতি ‘‌শুভেন্দু–ঘনিষ্ঠ’‌ তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বুবাই কর ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘‌মমতা ব্যানার্জি, শুভেন্দু অধিকারীর বিকল্প নেই বাংলায়। এখন বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা এসে কাজের হিসেব চাইছেন। অপমানিক বোধ করছেন নেতা–কর্মীরা। তাবড় তাবড় নেতা থাকতে এখন পিকের দলের কাছে রাজনীতি শিখতে হবে?‌’‌ তবে এসবের নেপথ্য অন্য কারণ রয়েছে বলেই মনে করছেন দলের একাংশ। সম্প্রতি তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‌আসলে এই বিদ্রোহী নেতারা হালে পানি পাচ্ছেন না বলেই প্রশান্ত কিশোরের অজুহাত দেখিয়ে দল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। হয়ত অন্য কোনও অফার এসেছে তাঁদের কাছে। প্রশান্ত তো বছর খানেক দলের সঙ্গে কাজ করছেন। তাহলে এতদিন কেন কেউ মুখ খোলেননি?‌ পিকের টিম দলকে শুধু প্রযুক্তিগত ভাবে সাহায্য করছে। সমীক্ষায় যেসব তথ্য তারা পাচ্ছে, সেটাই তারা দলকে জানাচ্ছে। পিকে দল চালাচ্ছে, এটা মনে করার কোনও কারণ নেই।’
প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে শুভেন্দুও যে ক্ষুব্ধ, তাও কারওর অজানা নয়, জানাচ্ছে তৃণমূল সূত্র। কিন্তু কখনই প্রকাশ্যে এবিষয়ে মুখ না খোলায় তৃণমূলের কোনও শীর্ষ নেতাই নাম করে শুভেন্দুকে আক্রমণ করেননি। সূত্রের খবর, সৌগত রায়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানান, দলের রাশ যখন মমতা ব্যানার্জি ও সুব্রত বক্সীর হাতে ছিল, তখন কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু এখন অভিষেক এবং প্রশান্ত কিশোরের দল যেভাবে কাজ করছে, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। সম্প্রতি শুভেন্দুর মানভঞ্জনে কাঁথির শান্তিকুঞ্জে ছুটে গিয়েছিলেন পিকে। বাবা শিশির অধিকারীর সঙ্গে দেখা হলেও বাড়িতে ছিলেন না শুভেন্দু। তারপরই রাজ্যের মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন পরিবহন ও সেচ দপ্তরের মন্ত্রী।
 

জনপ্রিয়

Back To Top