আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ চারদিক বরফে ঢেকে গিয়েছে। ক্রমাগত নামতে শুরু করেছে পারদ। এমনকী পারদ নামতে নামতে হিমাঙ্কের নিচে নেমে গিয়েছে। প্রায় বেঁচে থাকা মুশকিল। এমন পরিস্থিতিতে পাঁচজন পুলিস সহ–১২ জন মারা গেলেন ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পেরে। তার মধ্যেই এলো ফোন। এক গ্রামবাসী ফোন করে সেনবাহিনীর ক্যাম্পে বলেন, ‘‌আমার স্ত্রীকে বাঁচান। সে অন্তঃসত্ত্বা। দয়া করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন।’‌ ফোনটি এসেছিল জম্মু–কাশ্মীরের বান্দিপোরা এলাকা থেকে। 
আর এই ফোনটিই ওলোটপালট করে দেয় সেনাবাহিনীর কাজকে। একদিকে দুর্গম আবহাওয়া, অন্যদিকে গর্ভবতী মহিলাকে বাঁচানোর তাগিদ। কারণ বাঁচাতে হবে দুটি জীবন। কিন্তু উপায়?‌ পারদ যে শূন্যে নেমে গিয়েছে। রাস্তাঘাট বরফে ডেকে গিয়েছে। পথ অতিক্রম করাটাও কঠিন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে এবার পরিকল্পনা করে ঝাঁপিয়ে পড়ল সেনাবাহিনী। 
দৃঢ়প্রতিজ্ঞ চিত্তে প্রথমে তাঁরা পৌঁছন পরিবারের কাছে। তারপর তাদের ভরসা দিয়ে গর্ভবতী মহিলাকে একটি স্টেচারে করে নিজেদের হাতে তুলে হাঁটতে শুরু করে জওয়ানরা। কারণ বরফে স্তুপাকৃত রাস্তা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তারপর রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের জওয়ানরা আড়াই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন এই অবস্থায়। জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হল মহিলাকে। ঠিক তার পরেই যমজ সন্তানের জন্ম দেন তিনি। আর এতেই শান্তি, স্বস্তি এবং আনন্দ উপভোগ করলেন জওয়ানরা। নিমেষে কেটে গেল ক্লান্তিও। আসলে লক্ষ্যটা ঠিক থাকলে সাফল্য আসবেই। ফের তা প্রমাণ হল।   ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top