মোহনবাগান— ২ (‌হেনরি–২)
কাস্টমস— ০ ‌
‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌
টানা আট বছর মুখের গ্রাস চলে গিয়েছিল চির–প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবে। অল্পের জন্য হওয়া যায়নি চ্যাম্পিয়ন। কখনও বা গোলপার্থক্যে কাপ জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু মঙ্গলবার মিনি ডার্বিতে মহামেডানের কাছে সুভাষ ব্রিগেডের হারের পর অপেক্ষা ছিল কিছু সময়ের। আর কাস্টমসের বিরুদ্ধে জয়ের পরেই বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসে ভাসল মোহনবাগান সমর্থকরা। হেনরির জোড়া গোলে কাস্টমস চেকিং পেরিয়ে লিগ ঢুকল বাগানের ঘরে।
বুধবার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মকভাবে খেলা শুরু করে বাগান ফুটবলাররা। চাপে পড়ে যায় কাস্টমস ডিফেন্স। একের পর এক আক্রমণ তুলে আনেন হেনরি–ডিকারা। আর তাই খেলা শুরুর তিন মিনিটের মাথায় হেনরি গোল করে বাগানকে এগিয়ে দেন। তাঁর ডান পায়ের জোরালো শট রুখতে ব্যর্থ হন কাস্টমস গোলরক্ষক। গোল খেয়ে আরও যেন চাপে পড়ে যান কাস্টমসের খেলোয়াড়রা। দুই প্রান্ত থেকে বাগান ফুটবলারদের সেন্টার ভেসে আসতে থাকে। সময় যত এগোতে থাকে ধীরে ধীরে খেলায় ফেরে কাস্টমস, কিন্তু বাগান রক্ষণ এবং গোলকিপার শঙ্করের হাত আটকে দেয় সেই আক্রমণ।

এরপর ৪৪ মিনিটে মোহনবাগানের হয়ে আবারও ব্যবধান বাড়ান সেই হেনরি। দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে ডিকার থ্রু থেকে অনবদ্য গোল করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝড় আরও বাড়ে। তবে ম্যাচে ব্যবধান আরও বাড়তেই পারত। আজহারের একটি হেড পোস্টে লাগে। এছাড়া ডিকা নিজেই দু’‌টি সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। তবে কথায় আছে যার শেষ ভাল তার সব ভাল। আর সেটা ফের প্রমাণিত হল খেলা শেষের বাঁশি বাজতেই। সমস্ত ব্যারিকেড, পুলিসের বাধা অতিক্রম করে মাঠে ঢুকে পড়েন কয়েকহাজার সমর্থক। গ্যালারি নয়, সবুজ–মেরুন মাঠে তখন দর্শকদের ভিড়। দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করেছেন যে নায়করা তাঁদের একবার ছোঁয়ার চেষ্টা। সেলফি তোলার আবদার। আর হবে না–ই বা কেন, দীর্ঘ আট বছর পর কলকাতা লিগের গন্তব্য হতে চলেছে গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। 
তবে এসবের মধ্যেও কোচ শংকরলাল চক্রবর্তী আলাদা সমীহ আদায় করে নিচ্ছেন। গত কয়েকমাসে বাগানে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রচুর ঝামেলা হয়েছে। ফুটবলারদের বেতন দেওয়া নিয়েও সমস্যা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্পনসর সমস্যাও রয়েছে। কিন্তু এসবের মধ্যেও কোচ তার মধ্যে ফুটবলারদের ফোকাসড রাখতে পেরেছেন। আর সেই কারণেই ফুটবল বিশেষজ্ঞরাও শংকরলালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বাগানের লিগ জয়ের দিন কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলেন শংকরলালও। 

জনপ্রিয়

Back To Top