যজ্ঞেশ্বর জানা,দিঘা: ‘‌ভুলতে পারি নিজের নাম, ভুলব না কো নন্দীগ্রাম।’— এটাই তাঁর জীবনের পণ। রক্ত ঝরিয়ে বাংলায় শান্তি–উন্নয়ন ফিরিয়ে দিয়েছে নন্দীগ্রাম। নন্দীগ্রামের জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে বুধবার সেই নৃশংসতার খলনায়কদের নাম–পরিচয় ভিন্নপথে স্মরণ করিয়ে এবং তাঁদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার সেই নৃশংসতার তদন্তগতি ধীর শুনে মেজাজ হারালেন তিনি। সিআইডি কেন মামলার তদন্ত এতদিনে শেষ করেনি, তার জবাবদিহি চাওয়ার নির্দেশও দিলেন তিনি। 
রবিবার সৈকত শহর দিঘায় প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তদারকি করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই তাঁর কানে বিষয়টি তোলেন নন্দীগ্রামেরই বিধায়ক, জমি আন্দোলনের নেতা পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতাকে বলেন, ‘‌নন্দীগ্রামে নিখোঁজ হয়েছে আপনি জানেন। তুলে নিয়ে গিয়ে যেভাবে কেটে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই ঘটনায় নিগৃহীত পরিবারগুলি আদালতে মামলা করার পরে সিআইডি তদন্তভার নিয়েছে। তদন্ত কিছুটা হয়েছে। কিছু কিছু সাক্ষীকে ডাকা হয়েছে। আমার এলাকাতেও এসেছিল সিআইডি দল। তার পর দু’‌মাসের বেশি সময় ধরে আমরা দেখতি পাচ্ছি, কিছুই পদক্ষেপ হয়নি।’‌ শুভেন্দুর মুখে এই নালিশ শোনার পরই উত্তেজিত হয়ে মমতা মঞ্চে উপস্থিত স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে নির্দেশ দেন, মামলাটি যেন সিআইডি দ্রুত নিষ্পত্তি করে। সচিবকে বলেন, ‘‌অত্রি তুমি বলো সিআইডি–কে দ্রুত দেখতে। এতদিন কীসে লাগে?‌ কোনও কেস নেই। তাদের দেওয়া হয়েছে মামলাটা করতে। তারা কেন করেনি?’‌
নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনের সময়ে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির দুই সমর্থকের নিখোঁজ হওয়ার ১১ বছর পরে ঘটনার তদন্তভার গত জুলাইয়ে হাতে নিয়েছিল সিআইডি। নিখোঁজ দুর্গাপদ মাইতি ও সুব্রত সামন্তের পরিবারের তরফে নতুন করে অপহরণ ও খুনের অভিযোগ হলদিয়া মহকুমা আদালতে দায়ের করা হয়েছিল গত মার্চ মাসে। তাতে নাম ছিল প্রাক্তন সিপিএম নেতা ও সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠ–সহ ১৫ জনের। যার মধ্যে আছেন তপন ঘোষ, সুকুর আলিরাও। বুধবার মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‌বাংলায় আর হার্মাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে দেবেন না তিনি। আর এদিন সেই নন্দীগ্রাম নৃশংসতার হার্মাদদের বিরুদ্ধে তদন্তে গড়িমসির অভিযোগে কার্যত বিচলিত হয়ে ওঠেন মমতা।‌
উল্লেখ্য, বুধবারই নন্দীগ্রামের জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের বাজকুলে সরকারি গুচ্ছপ্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস এবং উপভোক্তা সুবিধা প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ৪৮ মিনিটের সেই বক্তব্যে তিনি ২০০৯–এর সিপিএমের সূর্যোদয়ের নামে নৃশংসতায় কথা বারবার স্মরণ করেন। কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেন সেদিনের শহিদদের। বলেন, ‘‌১৪ জনকে তো গুলি করা হয়েছিল, যাঁরা মারা গেছেন। আরও অনেকে আজ পর্যন্ত ফিরে আসেননি। এই ঘটনা কেউ ভুলবেন না।’‌ নন্দীগ্রাম, নেতাই, সিঙ্গুরের গণ–আন্দোলনের হাত ধরেই যে পরিবর্তন এসেছিল বাংলায়, সে কথা নেতা–কর্মীদের মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

 

দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী। আছেন শুভেন্দু অধিকারী, অন্য সচিবরা। ছবি: যজ্ঞেশ্বর জানা

জনপ্রিয়

Back To Top