আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ লকডাউনে সঙ্কটে পড়া দেশের দরিদ্রদের জন্য বৃহস্পতিবার ১.‌৭ লক্ষ কোটির ‘‌গরিব কল্যাণ প্যাকেজ’‌ বা ত্রাণ ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। এই প্যাকেজের সুবিধা পাবেন দেশের সব পরিযায়ী শ্রমিক, শহুরে এবং গ্রামীণ দরিদ্র মানুষরা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ ঘোষণা করেন, ‘‌প্রধানমন্ত্রী অন্ন যোজনা’‌–র অন্তর্গত ৮০ কোটি গরিব মানুষকে জন পিছু বিনামূল্যে অতিরিক্ত পাঁচ কেজি চাল বা গম এবং বিনামূল্যে এক কেজি ডাল পরিবারপিছু দেওয়া হবে আগামী তিনমাস। দুদফায় দেওয়া হবে এই প্যাকেজ।
সীতারামণ জানালেন, এই সঙ্কটের সময় অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলা স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের প্রতি জনপিছু ৫০ লক্ষ টাকা করে বিমার আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসক, নার্স, আশাকর্মী সহ এই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ২০ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন।
অর্থমন্ত্রীর আরও ঘোষণা, কিষাণ সম্মান নিধিতে ৮.‌৬৯ কোটি কৃষক তাঁদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২০০০ টাকা করে পাবেন। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই দেওয়া হবে প্রথম দফা।
১০০ দিনের কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের আয়  ১৮২ টাকা বাড়িয়ে ২০২ টাকা করা হল। ফলে তাঁদের রোজগার প্রায় ২০০০ টাকা বাড়বে। এর ফলে উপকৃত হবে প্রায় পাঁচ কোটি পরিবার।
গরিব বৃদ্ধ, পেনশনভোগী, দিব্যাঙ্গ এবং বিধবাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি অতিরিক্ত ১০০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দুদফায় দেবে সরকার। এর ফলে তিন কোটি মানুষ উপকৃত হবেন।
২০ কোটি মহিলা জনধন অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা আগামী তিন মাসে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা প্রতি মাসে নিজেদের অ্যাকাউন্টে পাবেন।
উজ্জ্বলা যোজনার অন্তর্ভুক্ত কমপক্ষে ৮.‌৩ কোটি পরিবারের মহিলারা আগামী তিন মাসে তিন সিলিন্ডার বিনামূ্ল্যে পাবেন। 
৬৩ লক্ষ মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী পাবে আগামী তিন মাস ২০ লক্ষ টাকার ঋণ নিতে পারবে এবং সেজন্য কোনও  গ্যারান্টি দিতে হবে না। এর ফলে উপকৃত হবে সাত কোটি পরিবার।
সংগঠিত ক্ষেত্রে ইপিএফ তহবিলে কর্মীদের পক্ষ থেকে এবং মালিকপক্ষের তরফে যে ১২শতাংশ ফান্ড জমা হত, সেই সম্পূর্ণ টাকা আগামী তিন মাস কেন্দ্রই জমা করবে। যেসব কোম্পানির ১০০জন কর্মী আছেন এবং তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেতন ১৫০০০ টাকার কম, সেগুলিই এই সুবিধা পাবে। 
সরকার ইপিএফ প্রকল্প সংশোধন করছে যাতে কর্মীরা তাঁদের বেতনের ৭৫ শতাংশ টাকা তুলতে পারেন আগামী তিন মাস এবং সেটা ফেরতযোগ্য নয়।  এর ফলে ১৮ লক্ষ কর্মী এবং চার লক্ষ কোম্পানি উপকৃত হবেন।
পরিকাঠামো ক্ষেত্রের শ্রমিকদের বেনিফিট ফান্ডে যে ৩১ হাজার কোটি টাকা রয়েছে সেখান থেকে তাঁদের অর্থ সাহায্য করতে রাজ্য সরকারগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উপকৃত হবেন কমপক্ষে সাড়ে তিন কোটি পরিকাঠামো ক্ষেত্রের শ্রমিক।
জেলা খনিজ ফান্ড থেকে অর্থের যোগান নিয়ে এই সঙ্কটের সময় স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজে লাগাতে রাজ্যগুলোকে আবেদন করেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। এদিন আরেকবার সীতারামণ পরিষ্কার করে দেন যে, এই তিন মাস যে কোনও ব্যাঙ্কের যে কোনও কার্ড থেকেই অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই টাকা তুলতে পারবেন গ্রাহকরা।
ছবি:‌ এএনআই

জনপ্রিয়

Back To Top