আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আর্টিলারি বন্দুক, হালকা হেলিকপ্টার, বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র– এইরকম বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আর আমদানি নয়। ঘরোয়া প্রযুক্তিতে দেশেই উৎপাদন হবে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ‘‌আত্মনির্ভরতা’‌ চেয়ে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রক। প্রতিরক্ষা পণ্য উৎপাদন ক্ষেত্রের পায়ের জমি শক্ত করতে রবিবার ১০১ রকমের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। কেন্দ্র চাইছে, এতদিন প্রতিরক্ষা পণ্য আমদানি করতে গিয়ে সরকারের যা খরচ হত, সেই টাকা এখন দেশেই বিনিয়োগ করা হোক।  
প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ভারত বরাবরই ‘‌বিদেশ–নির্ভর’‌। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট জানাচ্ছে, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারত প্রায় এক লক্ষ ২৮ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করেছে। যা কিনা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বাধিক!‌ রবিবারের ঘোষণায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলছেন, প্রতিরক্ষা পণ্যের প্রযুক্তি এবং উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত থাকা রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থার (‌ডিআরডিও) পাশাপাশি দেশীয় বেসরকারি সংস্থাগুলো এবার থেকে বরাত‌ পাবে। এছাড়াও আগামীদিনে ভারত যাতে প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানিও করতে পারে, সেটাই লক্ষ্য। 
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে নৌবাহিনীর র‌্যাডার, সাবমেরিন খুঁজে বের করার যন্ত্র ও কয়েক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং বায়ুসেনার হাল্কা পরিবহণ বিমান ও হাল্কা হেলিকপ্টার, প্রশিক্ষণবিমান ও চালকহীন বিমান, মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, স্নাইপার রাইফেল, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, সল্ট রাইফেলস করভেটস, চাকাযুক্ত আর্মাড ফাইটিং ভেহিকেলস, পরিবেশবান্ধব জাহাজ, জিস্যাট ৬ টার্মিনাল ইত্যাদি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানাচ্ছেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য ২০১৫–র এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে মোট ২৬০টি প্রকল্প নিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রক। তার জন্য সরকারের খরচ প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কোটি টাকা। আগামী ৬–৭ বছরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য সরকার প্রায় চার লক্ষ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা বেঁধেছিল। সেই টাকা এখন দেশেই প্রতিরক্ষা পণ্য উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যয় করবে সরকার। মন্ত্রক সূত্রে খবর, তিন বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। রাজনাথ সিং নিজেই টুইটে জানান, স্থল এবং বায়ুসেনার কাজে লাগে এরকম প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আমদানি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি নৌ–সেনার যেসব সরঞ্জামে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তার পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা। চাকাযুক্ত আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকেলের আমদানি আগামী বছর ডিসেম্বর থেকেই বন্ধ হবে। এই অস্ত্রের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সবকটি সরঞ্জামের আমদানিই এবছর থেকে বাতিল করা হচ্ছে না। ২০২০–২৪ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে করা হবে। কখন কোন পণ্যের আমদানি বাতিল করলে বাহিনীর বিশেষ অসুবিধে হবে না, তা আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে খবর। ১০১ ধরনের পণ্যের মধ্যে ৬৯টি পণ্যের আমদানি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বন্ধ হতে চলেছে। ১১টি পণ্য আগামী বছরের শেষের দিকে, আরও ১২টি পণ্যের আমদানি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে বন্ধ হবে।  
গত মে মাসে আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের প্যাকেজ ঘোষণার সময়েই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছিলেন, বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে কেন্দ্র। ইঙ্গিত ছিল, মে মাসেই প্রতিরক্ষামন্ত্রক তালিকা প্রকাশ করে জানিয়ে দেবে, কোন কোন সরঞ্জামের আমদানি বাতিল করা হচ্ছে। তারপর প্রায় তিন মাস পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সেই তালিকা প্রকাশ করল। প্রতিরক্ষায় আমদানির খরচ কমাতে আলাদা বাজেট তৈরি করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। 

 

 

 

 

জনপ্রিয়

Back To Top