মনোজিৎ মালাকার:‌ রাজ্যজুড়ে ফের সবুজ ঝড়। হ্যাটট্রিক তৃণমূলের। বিজেপির যে হেভিওয়েটরা এবার বাংলা দখলের লড়াইয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছিলেন তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় একজন। ২০১৪ সালে যখন বঙ্গে কোনও হাওয়াই ছিল না বিজেপির, তখন বিজেপির যে দু’‌জন প্রার্থী জিতেছিলেন তার মধ্যে একজন ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। তারপর রাজ্যে প্রভাব বিস্তার করায় ফের ২০১৯-‌এ আসানসোল কেন্দ্র থেকে প্রায় দু’‌ লক্ষ ভোটে জিতেছিলেন তিনি। মেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব। কিন্তু একুশে বাংলা দখলে মরিয়া বিজেপি তাঁকে টালিগঞ্জ কেন্দ্রে প্রার্থী করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও ইভিএম খুলতেই দেখা গেল অন্য চিত্র।

 

৫০ হাজার ৮০ ভোটে জয়ী হলেন তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাস। কার্যত রেকর্ড মার্জিনে জয়লাভ করেন তিনি। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় পেয়েছেন ৫১ হাজারের কিছু বেশি ভোট। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী পেয়েছেন ৪০ হাজারের কিছু বেশি ভোট। তবে অরূপের জয়ের এই বিপুল মাত্রা এনে দিয়েছে এখানে ত্রিমুখী লড়াই। অরূপের বিরুদ্ধে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মোট ভোট পড়েছে ৯১ হাজারের কিছু বেশি। তবে এই ভোটের ফলাফলে খুশি অরূপ বিশ্বাস।

 

কিন্তু কেন এই বিপুল পরিমাণে হার বিজেপির বাবুলের?‌ উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল, টালিগঞ্জ অঞ্চলে বিজেপির সংগঠন তেমন মজবুত নয়। হেভিওয়েটকে প্রার্থী করলেও প্রচারে সেই কৌশল আনতে পারেনি স্থানীয় নেতৃত্ব। অন্যদিকে বামের ভোট রামে তেমনভাবে দেয়নি এলাকার মানুষ। সঙ্গে জুড়েছে বহিরাগত তত্ত্ব। আসানসোল থেকে টলিপাড়ায় তাঁকে প্রার্থী করায় খুব একটা ভাল চেখে দেখেনি সাধারণ মানুষ।
 
গত বারের ব্যবধান ছিল মাত্র ১০ হাজারের কাছাকাছি। এবার তার প্রায় ৫ গুণ বেশি ব্যবধান। ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে বিজেপির ভোট ছিল প্রায় ১২ শতাংশ। মূল যুযুধান ছিল বাম-‌জোট ও তৃণমূল। কিন্তু এবার ভোট ভাগ হয়েছে। এমনকি তৃণমূলের ভোটও বেড়েছে এই কেন্দ্রে। যার ফলেই এই আশাতীত ফল তৃণমূলের।

Back To Top