আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ হাথরসের ক্ষত মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ফের এক দলিত কন্যাকে গণধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশে। এবার ঘটনাস্থল উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর। যা লখনউ থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে। অভিযোগ, মঙ্গলবার ২২ বছরের এক তরুণীকে অপহরণ করার পর মাদক খাইয়ে ধর্ষণ করা হয়। তারপর তাঁর দুই পা ও কোমর ভেঙে দেয় অভিযুক্তরা। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ইনজেকশন দিয়ে বিষও দেওয়া হয়। এই ঘটনায় শাহিদ ও শাহিল নামে দু’‌জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলরামপুর থানার পুলিশ। তবে পা ও কোমর ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, ময়নাতদন্তে এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দলির যুবতীর দেহে একাধিক আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। নির্যাতিতার ভাই জানান, কোতওয়ালি অঞ্চলে তাঁদের বাড়ি। অফিসে যাওয়ার জন্য মেধাবী তরুণী মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোন। তারপর থেকে মোবাইলেও পাওয়া যায়নি। সন্ধে হয়ে গেলেও মেয়ে বাড়ি ফিরছে না দেখে পুলিশের দ্বারস্থ হন পরিবারের লোকেরা। কাজে যাওয়ার পথেই দলিত যুবতীকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর মা। গভীর রাতে একটি রিকশায় চেপে বাড়ি ফেরেন তরুণী। মারাত্মক জখম, কথা বলতে পারছিলেন না। ওই নির্যাতিতাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লখনউ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু পৈশাচিক নির্যাতনের জেরে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুই অভিযুক্তের মধ্যে একজন আবার নাবালক। এই ঘটনায় আরও একবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে যোগী প্রশাসন। 
কাতর সুরে নির্যাতিতার মা বলছিলেন, ‘‌ও উঠে দাঁড়াতে পারছিল না, কথাও বলতে পারছিল না ঠিকমতো। শুধু কাতরস্বরে বলছিল, আমি মরতে চাই না।’‌ 
ঘটনা নিয়ে বলরামপুরের পুলিশ সুপার রঞ্জন ভর্মা বলেছেন, ‘গিয়স্রি থানায় ঘটনা নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। মহিলার পরিবারের লোক জানিয়েছেন মঙ্গলবার মধ্যরাত অবধি বাড়ি ফেরেনি যুবতী। তাঁকে ফোনেও পাচ্ছিলেন না। পরে যুবতী গভীর রাতে রিক্সা করে বাড়ি ফেরে। তখন তাঁর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু বুধবার স্থানান্তরিত করার সময় পথেই মৃত্যু হয়।’ ওই পুলিশ অফিসার আরও বলেছেন, ‘ধর্ষণের পর নির্যাতিতাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিল অভিযুক্তরা। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে তারা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে রিক্সায় চাপিয়ে নির্যাতিতাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।’ ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। জানা গেছে দুই অভিযুক্তের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল তরুণীর। সেই সুযোগ নিয়েই দলিত যুবতীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। 
ঘটনার কথা সামনে আসতেই যোগী প্রশাসনকে একহাত নিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা ও উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। 

 

 

 

হাথরস, বলরামপুরের মতোই নৃশংসতা দেখা গিয়েছে বুলন্দশহর এবং আজমগড়েও। বুলন্দশহরে ১৪ বছর বয়সের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি মঙ্গলবার রাতের। অন্যদিকে আজমগড়ে নির্যাতিতার বয়স মাত্র ৮ বছর। ওই শিশুকন্যাকে স্নান করানোর অছিলায় ধর্ষণ করেছে ২০ বছরের এক প্রতিবেশী যুবক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি নির্যাতিতা। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জনপ্রিয়

Back To Top