অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা: এতদিন বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী নির্যাতনের খবর উঠে এসেছে সংবাদ শিরোনামে। কিন্তু এবারে পুরুষ নির্যাতনের অভিযোগ উঠল ‌৪ মহিলার বিরুদ্ধে। এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যাচারের কথা উল্লেখ করে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন ওই যুবক।
রবিবার অষ্টমীর রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মালদা শহরের বুড়াবুড়িতলা এলাকায়। ওই এলাকায় রেললাইনের চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন স্থানীয় এক যুবক। এই ঘটনায় মৃত যুবকের বাবা সত্য ঘোষ তার পুত্রবধূ প্রিয়াঙ্কা সরকার, মা মিনতি সরকার এবং আরও দুই মহিলা ঝুমা সরকার ও টুম্পা সরকারের বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 
এদিকে এই বিষয়টি জানাজানি হতেই মৃত যুবকের আত্মীয়–পরিজন, পাড়া–প্রতিবেশীরা অভিযুক্ত মহিলাদের বাড়ি ভাঙচুর করে। ক্ষিপ্ত জনতার হাত থেকে বাঁচতেই অষ্টমীর গভীর রাতেই গা ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্ত চার মহিলা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম রাহুল ঘোষ (২২)। তার বাড়ি বুড়াবুড়িতলা এলাকায়। দেড় বছর আগে চার্চপল্লী এলাকার বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা সরকারকে বিয়ে করেছিল রাহুল। এরপর স্ত্রীর ও তার পরিবারের নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ। বাবা–মায়ের থেকে আলাদা হয়ে যায় রাহুল। পাশের পাড়াতেই বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে সে।  এই ঘটনার মধ্যেই স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা তার মা এবং দুই বোন রাহুলের ওপর নানানভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে বলে অভিযোগ। খেতে না দেওয়া, মারধর করা এরকম নানাভাবে দিনের পর দিন নির্যাতন চালানো হয়। এরপরই সেই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে ওই যুবক বলেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানায়।
মৃত যুবকের বাবা সত্য ঘোষ পুলিশকে অভিযোগে জানিয়েছেন, ছেলে রাহুল তার স্ত্রীর বিভিন্ন বদ অভ্যাস, খারাপ আচরণ এবং চারিত্রিক দিক দিয়েও প্রচুর অভিযোগ শুনেছিল। কিন্তু তারপরেও ভালোবাসার খাতিরে ছেলে রাহুল তার স্ত্রীকে মেনে নিয়েছিল। ওরা আলাদা ছিল শুধুমাত্র পুত্রবধূ ও তার পরিবারের চাপে পড়ে। সম্প্রতি রাহুলের স্ত্রীর সন্তান সম্ভবা হয়। এই অবস্থায় ওর পরিবারের লোকেরা প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে চলে যায় চার্চপল্লী এলাকার তাদের বাড়িতে। সেখানে পেটের সন্তান কেও নষ্ট করে ওরা। ছেলের প্রতি অত্যাচার তো ছিলই। আর এসব ঘটনা কোনওভাবে বরদাস্ত করতে পারেনি রাহুল। দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই আত্মঘাতী হয়েছে সে। পুরো বিষয়টি নিয়ে ইংরেজবাজার থানায় চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। এদিকে, অষ্টমী রাত এগারোটার সময় ওই যুবকের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পাড়া–প্রতিবেশীরা। চার্চপল্লী এলাকায় অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এরপরে অভিযুক্তরা ওই এলাকা থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

জনপ্রিয়

Back To Top