নিরুপম সাহা,হাবড়া: দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে একপ্রকার ফাঁকা মাঠেই নির্বাচনী জনসভা করে গেলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ‌মৃণালকান্তি দেবনাথের সমর্থনে জেলা বিজেপি–র উদ্যোগে বুধবার দুপুরে হাবড়ার শুভ জাগ্রত সঙ্ঘের ময়দানে এই সভার আয়োজন করা হয়। যোগী তাঁর বক্তব্যে কলকাতায় বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার কথা অস্বীকার করেন। পাশাপাশি মোদির গুণগান করে তৃণমূলকে একপ্রকার হুমকি দিয়ে যান।
বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের তিনি বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচার সভা করেছিলেন। সেখানেও মাঠ ভরাতে পারেননি তিনি। শুধু তাই নয়, সেই সভায় দলের প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর নিজেই উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি যোগী তাঁর বক্তব্যে একবারের জন্য প্রার্থীর নাম পর্যন্ত মুখে আনেননি। এই নিয়ে দলীয় কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি করে ছিলেন, যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্য শুনতে গোটা মাঠ ভরে গিয়েছিল। আর প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর অসুস্থ থাকার কারণে ওইদিনের সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।
এদিন হাবড়ার সভায় অবশ্য অনেক বেশি সতর্ক ছিল বিজেপি। এদিন যোগীর সভায় শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই উপস্থিত ছিলেন বারাসতের প্রার্থী মৃনালকান্তি দেবনাথ। এদিন যে মাঠে যোগীর সভা আয়োজন করা হয়েছিল, সেই মাঠটি তুলনায় অনেকটাই ছোট। তার ওপর নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে মাঠের অনেকটা অংশ ঘিরে ছোট করা হয়েছিল। তার পাশাপাশি মাঠের মাঝখানে কিছুটা অংশ জুড়ে ছাউনি তৈরি করা হয়েছিল। আর সেই অংশটুকুই শুধুমাত্র ভর্তি ছিল। বাকি গোটা মাঠই ছিল ফাঁকা। যোগী তাঁর বক্তব্যে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রসঙ্গ তুললেও এই কাণ্ড যে তাঁর দলের কর্মীরা করেনি বলে দাবি করেছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে তিনি ওই ঘটনার জন্য তৃণমূলের দিকেই আঙ্গুল তুলেছেন। তিনি তঁার বক্তব্যে বার বার নরেন্দ্র মোদির প্রসংশা করে পশ্চিমবঙ্গের সরকারের সঙ্গে তূল্যমূল্য সমালোচনা করেন। যোগীর বক্তব্য শুনে কেউ কেউ সমালোচনার সুরে বলতে থাকেন, যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্য শুনে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, বিজেপি আগে রাজ্যে একটিও আসনে জিতে দেখাক। তারপর যোগীর কথার উত্তর দেওয়া হবে। তার পাশাপাশি, এবারে ভোটের ফল প্রকাশ হওয়ার পর কেন্দ্রে সরকার তৈরি করতে বিজেপি ব্যর্থ হবে বলেও দাবি করেন তৃণমূল নেতারা।

জনপ্রিয়

Back To Top