চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, কাটোয়া: ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির সুফল পেলেন স্বামী পরিত্যক্তা এক বধূ। কাটোয়ার গোপখাজি গ্রামের মন্দিরা চক্রবর্তীর মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে দরমার দেওয়াল ঘেরা ছেঁড়াফাটা ত্রিপলের ছাউনির ঘর। সেখানেই দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেন তিনি। আকাশে মেঘ জমলেই মন জুড়ে আতঙ্কের কালো মেঘ ভিড় করে। বৃষ্টি এলেই সব ভিজে যায়। প্রতিবেশীদের পরামর্শে তাই ‘দিদিকে বলো’র ফোন নম্বরে ফোন করে নিজের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন মন্দিরা দেবী। ভাবতেই পারেননি যে একটা ফোনেই এত কাজ হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে ফোন আসে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের কাছে। বর্ধমান থেকে নির্দেশ পান সংশ্লিষ্ট কাটোয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কণিকা বাইন সরকার। তিনি বললেন, ‘সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখেছি সত্যিই মন্দিরাদেবীর একটা ঘর দরকার। তঁাকে অনেক কষ্ট করে দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতে হয়। তাই সব কিছু দেখে সেই অনুযায়ী রিপোর্ট তৈরি করে পাঠিয়ে দিয়েছি।’ রাজ্য সরকারের বাংলা আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা মন্দিরাদেবীর হাতে তুলে দিয়েছেন কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বললেন, ‘দিদিকে বলো যে কর্মসূচি মমতা ব্যানার্জি হাতে নিয়েছেন, তার সুফল বাংলার প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। গৃহহীন মন্দিরাদেবীর ঘর পাওয়াই তার উজ্জ্বল উদাহরণ। এমন নজির রোজই বাংলা জুড়ে প্রতিফলিত হচ্ছে।’
বৃষ্টি নামলে আর আতঙ্ক নেমে আসবে না মন্দিরাদেবীর মাথায়। শীতে দুই ছেলে দীপেন্দু–দেবাংশুকে বুকে চেপে কঁাপতে হবে না দিনের পর দিন। বহুদিন বাদে তাই হাসির ঝিলিক মন্দিরাদেবীর মুখে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বাস করুন ‘‌দিদিকে বলো’‌–তে ফোন করার পরও ভাবিনি সত্যি সত্যিই ঘর পাব। ৫ আগস্ট ফোন করি। তার পর মুখ্যামন্ত্রীর কালীঘাট অফিস থেকে দেখা করার জন্য ফোন আসে। ১০ আগস্ট গিয়ে দেখা করে আসি। তার ৪ দিনের মাথায় পঞ্চায়েত সমিতির প্রতিনিধিরা এসে সরেজমিনে সব কিছু দেখে যান। এখন ঘরের টাকা পেয়ে গেলাম। কতটা উপকার যে আমার হল, তা বলে বোঝাতে পারব না। আমার খুব ইচ্ছে বাড়িটা হয়ে গেলে গৃহপ্রবেশের পর একবার কালীঘাটে যাব। যদি সুযোগ পাই দিদিকে একবার প্রণাম করে আসব। দিদি যে এত তাড়াতাড়ি আমার জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেবেন, স্বপ্নেও ভাবিনি।’
প্রায় ১২ বছর আগে মন্দিরা দেবীর স্বামী দিলীপ চক্রবর্তী নিখোঁজ হয়ে যান। স্বামী চলে যাওয়ায় দুই ছেলে দীপেন্দু ও দেবাংশুকে নিয়ে অথৈ জলে পড়েন তিনি। মাথার ওপর ছাদ দূরে থাক, দু’বেলা দু’মুঠো কী খাবেন, সেই চিন্তায় পাগল হওয়ার জোগাড়। সেই সময় নানা জায়গায় সাহায্যের জন্য দৌড়েছিলেন। কিন্তু সাহায্য পাননি। আগে সেলাইয়ের কাজ জানতেন। সেই শিক্ষাটাই কাজে লেগে যায়। সেলাইয়ের কাজ করে কোনও রকমে সংসার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু বাড়ি করার মতো ক্ষমতা ছিল না। তাই অভাবের অথৈ সমুদ্রে খড়কুটো ধরার মতো ‘দিদিকে বলো’র ফোন নম্বরে ফোন করেছিলেন। তাতেই নিজের মাথা গোঁজার পাকাপোক্ত ঠঁাই হওয়ায় তিনি নিশ্চিন্ত।

জনপ্রিয়

Back To Top