স্বদেশ ভট্টাচার্য,বসিরহাট: বড় এক কর্মযজ্ঞের সাক্ষী রইল বসিরহাটের নির্মীয়মাণ কর্মতীর্থ। বুলবুল বিপর্যয়ের পর বসিরহাট মহকুমার ৫টি ব্লকের দুর্গত মানুষের জন্য এখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ত্রাণ ও পুনর্গঠনের কাজে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ দেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদার্পণে কার্যত উদ্বোধনের আগেই মানুষের জন্য কাজের রূপরেখা তৈরি হল এখান থেকেই। কর্মতীর্থ দেখে খুশি মুখ্যমন্ত্রী।
বসিরহাট ১ ব্লকের মেরুদণ্ডী মৌজায় তৈরি হচ্ছে এই কর্মতীর্থ। সংখ্যালঘু উন্নয়ন তহবিলের অর্থে এই প্রকল্পটি তৈরি করছে পূর্ত দপ্তরের সোশ্যাল সেক্টর। কর্মতীর্থ তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৯ লক্ষ টাকা। পূর্ত দপ্তরের সোশ্যাল সেক্টরের সহকারী বাস্তুকার পিনাকী রঞ্জন কাঞ্জিলাল জানান, ‘‌এটা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাবনাপ্রসূত একটি প্রকল্প। ‘‌কর্মতীর্থ’‌ নাম তাঁরই দেওয়া। এটি গ্রামীণ মানুষের একটি রোজগার যোজনা। গ্রামীণ এলাকায় উৎপাদিত সামগ্রী এখানকার স্টলে রাখা হবে।’ পিনাকীবাবু বলেন, ‘‌৬ হাজার বর্গফুটের এই কর্মতীর্থে ৪০টি স্টল রাখা হবে। দোতলায় ২০, নিচের তলায় ২০টি স্টল রাখা হবে। একটি গুদাম ঘর এবং একটি ৪৫ আসন বিশিষ্ট সেমিনার কক্ষ। এখানেই বুধবার মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য প্রশাসনের কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন।’ তিনি বলেন, কর্মতীর্থের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সামান্য কিছু বাকি আছে।
বসিরহাট ইছামতী সেতু পার হয়ে ওল্ড সাতক্ষীরা রোড ধরে মেরুদণ্ডী স্লুইস গেট। পাশেই বিরাট মাঠ। মাঠের একপাশে স্থায়ী হেলিপ্যাড। তার এক প্রান্তে কর্মতীর্থ। সংগ্রামপুর শিবহাটি পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জয় সরকার বলেন, কর্মতীর্থের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এখনও হয়নি বটে কিন্তু আগের দিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদধূলিতে কর্মতীর্থ থেকে গোটা মহকুমার বিপর্যয় মোকাবিলার কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে গেল। 

বসিরহাটের মেরুদণ্ডী মৌজায় নির্মীয়মাণ কর্মতীর্থ। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top