আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ স্ত্রীকে খুন করে ২২ টুকরো করে ছড়িয়ে দিয়েছিল প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে।  চুল ছেঁটে দেওয়া কাটা মাথা উদ্ধারের পর শনাক্ত হয়েছিল মৃতদেহ। ১৪ বছর পর অবশেষে সেই খুনের মামলার সাজা ঘোষণা করলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার ফার্স্ট ট্র‍্যাক দ্বিতীয় আদালতের বিচারক বিনয় কুমার প্রসাদ। রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনানো হল নিহত সাবিনা খাতুনের স্বামী মহিদুর আলম, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম ও ননদ নুর নেহা বেগমকে। আর চাঞ্চল্যকর এই মামলার সাজা শোনার জন্য রায়গঞ্জ জেলা আদালতে বৃহস্পতিবার উপচে পড়েছিল মানুষের ভিড়। ইটাহার থানার কেউটালের বাসিন্দা মহিদুর রায়গঞ্জের স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আংশিক সময়ের অধ্যাপক ছিলেন। ওখানেই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে কলেজ ছাত্রী কালিয়াগঞ্জের বাসিন্দা সাবিনা খাতুনের। তাঁরা পালিয়ে গিয়ে বিয়েও করেন। বিয়ের পর রায়গঞ্জ করোনেশন স্কুলের পাশে একটি বাড়ি ভাড়া থাকতেন দু’‌জনে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরে ২০০৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বাপের বাড়ি কালিয়াগঞ্জ যাওয়ার নাম করে বেড়িয়ে নিখোঁজ হয়ে যান সাবিনা। ২৪ তারিখে কালিয়াগঞ্জ থানায় মিসিং ডায়েরি করা হয়। এরপর ২৬ তারিখ কালিয়াগঞ্জের কালুপুকুরের জলে প্লাস্টিকের ব্যাগে বাঁধা অবস্থায় চুল কামানো একটি মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রায়গঞ্জ ও কালিয়াগঞ্জের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাবিনার শরীরের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার হয়। জলপাইগুড়ি ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয় দেহাংশ। সাবিনার বাপের বাড়ির লোক অভিযোগ করেন, সাবিনাকে খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহাংশ ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছিল মহিদুর আলম। এরপরেই অভিযুক্ত শিক্ষক মহিদুর আলম এবং তার মা ও বোনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছাড়াও তিনজনের দশ হাজার টাকা জরিমানার সাজা দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর অভিযুক্ত শিক্ষক মহিদুর অবশ্য দাবি করেন, তিনি ন্যায় বিচার পাননি।‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top