গৌতম মণ্ডল, ডায়মন্ড হারবার: ডায়মন্ড হারবারের স্টেশন মাস্টার খুনে মনুয়া–‌কাণ্ডের ছায়া। প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার জন্য পরিকল্পনা করে স্বামীকে খুন করায় স্ত্রী সোনালি কুমারী। বাড়ির পাশে নর্দমা থেকে পুলিশ রেলকর্মী নির্মলকুমার সাউয়ের (‌৩০)‌ দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাক্তন প্রেমিক আরশাদ জলিলের সঙ্গে নতুন সংসার গড়াই খুনের একমাত্র কারণ নয়। নির্মলের চাকরির ওপরও নজর ছিল সোনালির। কারণ, আরশাদের কোনও চাকরি ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় সরকারের মোটা বেতনের ওই চাকরির অন্যতম দাবিদার ছিল সোনালি। সেভাবেই এগোয় সব পরিকল্পনা।
বছর তিনেক আগে বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা সোনালির সঙ্গে সম্বন্ধ করে বিয়ে হয় ভাগলপুরের সুলতানগঞ্জের বাসিন্দা নির্মলের। তাঁদের এক কন্যাসন্তান হয়। দেড় বছর আগে নির্মল স্টেশন মাস্টার হয়ে ডায়মন্ড হারবারে আসেন। থাকতে শুরু করেন স্টেশন লাগোয়া রায়নগরের ভাড়াবাড়িতে। সোনালি ছিল বাপের বাড়িতে। পুলিশ সূত্রে খবর, বিয়ের পরও প্রাক্তন প্রেমিক আরশাদের সঙ্গে সোনালির নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। কর্মসূত্রে কয়েক মাস দুবাইয়ে কাটানোর পর আরশাদ মুঙ্গেরের বাড়িতে ফিরে আসে। দু’‌জনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। অবাধ মেলামেশা চলতে থাকে। নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে সোনালি। পথের কাঁটা নির্মলকে খুনের ছক কষতে থাকে দু’‌জন মিলে।
চলতি বছরে ছটপুজোয় বাড়ি যান নির্মল। স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে ডায়মন্ড হারবারের ভাড়াবাড়িতে ফেরেন। এখানে এসে আরশাদকে ডেকে নেয় সোনালি।

পরিকল্পনামাফিক রবিবার রাতে আরশাদ পেছনের দরজা দিয়ে ওই বাড়িতে ঢোকে। আগে থেকেই দরজা খুলে রেখেছিল সোনালি। নির্মলকে শ্বাসরোধ করে খুন করে আরশাদ। খুনের সময় জোরে টিভি চালিয়ে দিয়ে সোনালি তার সন্তানকে নিয়ে অন্য ঘরে চলে যায়। সে সময় সোনালির ভাই ও তাঁর স্ত্রী ছিলেন ওই বাড়িতে। কিন্তু টিভির আওয়াজে তাঁরা কিছুই টের পাননি। গভীর রাতে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর দেহ লোপাটের চেষ্টা করে তারা। কিন্তু দেহটি পাশের বাড়ির নর্দমায় পড়ে যায়। দিনের আলো ফুটে যাওয়ায় কিছু করতে পারেনি। আরশাদ গা–ঢাকা দেয়।
সোমবার নির্মলের দেহ উদ্ধারের পর সোনালি স্বাভাবিক ছিল। পরে প্রতিবেশীদের সামনে কান্নাকাটি করে। কয়েক ঘণ্টা পর ভাবলেশহীন। বিভ্রান্তিতে পড়ে পুলিশ। তবে সোনালির কথায় একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তার মোবাইলের কল রেজিস্টার দেখে আরশাদের নাম পায় পুলিশ। খুনের কয়েক দিন আগে থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আরশাদের সঙ্গে সোনালির কথা হত। সোনালিকে আটক করে আরশাদকে খুঁজতে শুরু করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে একবালপুরের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আটক করা হয় আরশাদকে। তার পর দু’‌জনকে মুখোমুখি বসিয়ে চলে জেরা। একসময় তারা নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয়। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় সোনালি ও আরশাদ জলিলকে। ধৃতদের শুক্রবার ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সুপার ভোলানাথ পান্ডে জানিয়েছেন, ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে।

সন্তান কোলে ধৃত সোনালি কুমারী। ডানদিকে, আরশাদ জলিল। ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে। শুক্রবার। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top