আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‌নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে মতুয়াদের ভুল বোঝাচ্ছে বিজেপি। মতুয়া মন পেতে ষষ্ঠ দফার নির্বাচনের আগে উত্তর চব্বিশ পরগণার গাইঘাটায় গিয়ে বললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। মতুয়াদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাঁর কাছেই অনুরোধ করেছিলেন ‘‌বড়মা’। সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু চিঠিও মমতাকে লিখেছিলেন ‌বীণাপাণি দেবী, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
২২ এপ্রিল ষষ্ঠ দফায় গাইঘাটায় ভোট। তার আগে গোবরডাঙার হিন্দু কলেজ ময়দানে সভা করলেন মমতা। সেই সভা থেকেই বলেন, ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বিজেপি, তা সম্পূর্ণ ভাঁওতা‌। সকলেই নাগরিক। আপনারা নাগরিক না হলে আপনাদের কাছে জমি, বাড়ি, গাড়ি আছে কী করে?‌ আলাদা ভাবে আবার কী নাগরিকত্ব দেবে?‌ মিথ্যে কথা বলে ভোট পাওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। ভোটের সময়েই এখানে আসে। সারা বছর কিছু করে আপনাদের জন্য?‌’‌ সিএএ নিয়েও বিভিন্ন রকম কথা বলছেন বিজেপি নেতারা, অভিযোগ তৃণমূল নেত্রী। বলেন, ‘‌এখানে এসে বলছে, মতুয়াদের অধিকার দেবে। ওদিকে আবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি গিয়ে বলছে, সিএএ হবে না। সবকটা বহুরূপী। কখনও টিকটিকি, কখনও গিরগিটি।’‌ 
‘‌বড়মা’র চিঠির প্রসঙ্গে টেনে মমতা বলেন, ‘‌‘‌উনি আমায় বলেছিলেন, ‘‌আমার অবর্তমানে ওদের দেখে রেখো’‌। আমি বলেছিলাম, রাখব। চিন্তা করবেন না।’’‌‌ বাংলায় ভোটের মাঝে নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ‘‌প্রত্যেকবার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ গেলে আমাকে নিয়ে যাও, কারণ শেখ হাসিনা আমাকে ভালবাসেন বলে৷ এবার তো লুকিয়ে লুকিয়ে গেলে, এখানকার একটা ছোকরাকে নিয়ে, কই আমাকে তো নিয়ে গেলে না! ভোটের জন্য যেতে হল৷ মমতা গেলে বিষ হয়, আর তুমি গেলে বিষক্ষয় হয়? ভোটের পর আর দেখতে পাবেন না, পাখি পালিয়ে যাবে৷’‌ 
ঠাকুর পরিবারের বাইরে বেরিয়ে সাধারণ কোনও সভাপতি, দলপতি বা সমর্থককে কেন প্রার্থী করে না বিজেপি,‌ প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘আমি দিয়েছি৷ রমেন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে অনিরুদ্ধ বিশ্বাস, নরোত্তম বিশ্বাস, এঁরা তো মতুয়া সমাজের আদি লোক৷ এঁদের আমি প্রার্থী করেছি। এঁদের দিয়েই আমি বাকি কাজ করে দেব৷ মতুয়া সমাজের বাড়ি ঘর সব করে দেব৷ ঠাকুর বাড়ির জন্য কারও ভিক্ষে চাই না৷ এখানে মা–মাটি–মানুষের সরকার আছে৷’‌ 

Back To Top