আজকালের প্রতিবেদন
করোনার জেরে দেশ জুড়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি চলছে। এই সময়ে মানুষের সেবা না করে কোনও কোনও রাজনৈতিক দল কুৎসা, অপপ্রচার করার কাজে নেমেছে। সোমবার নবান্নে এমনই অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।  বিজেপি‌–‌র নাম না করে তিনি অভিযোগ তোলেন, কোনও কোনও রাজনৈতিক দল তাদের তথ্যপ্রযুক্তি সেলের সাহায্যে নানা রকম ফেক নিউজ ছড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন ব্যবহার করে ভুল তথ্য, গুজব ছড়াচ্ছে। মানুষকে ভুল বোঝানোর জন্য কঁাসর‌ঘণ্টা বাজিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘‌আমি তঁাদের বলব, দয়া করে এটা করবেন না। অপপ্রচার করবেন না। আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। তালি কিন্তু এক হাতে বাজে না। করোনার কারণে মৃতের সংখ্যা কত, তা বিশেষজ্ঞ কমিটিই জানাবে। এই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকেরা নিয়েছেন। এখানে আমার কিছু করার নেই। আপনারা চিকিৎসকদের ওপর ভরসা রাখুন, কোনও রাজনৈতিক দলের ওপর রাখবেন না।’‌ ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌এটা রসিকতা বা রাজনীতি করার সময় নয়। মানুষের পাশে দঁাড়ানোর সময়, সেবা করার সময়।’‌মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকার থেকে এখনও তঁারা কিছুই পাননি। তবুও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন। অসুবিধে থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে একজন সাংসদ উপস্থিত থাকবেন। অনেক সময় বৃহৎ স্বার্থে অনেক কিছু মেনে নিতে হয়। আর অনুরোধ এসেছে যখন, তখন সেই অনুরোধ রাখা হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন, এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সব রকম সহযোগিতার পরেও একদিন, রবিবার নবান্ন বন্ধ থাকায় সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়নি বলে কাদা–‌ছোড়াছুড়ি করা হচ্ছে। তঁার প্রশ্ন, ‘‌বুলেটিন এলেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?‌ তার চেয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে সরাসরি জানানোটা কি বেশি ভাল না?‌’‌ তিনি বলেন, ‘‌আমিই বলেছিলাম, বুলেটিন পরে দেওয়া হবে। আগে কেউ–‌না–কেউ সাংবাদিক সম্মেলন করবেন। আমি না করলে মুখ্য সচিব করবেন। প্রশাসনিক দিক থেকে মুখ্য সচিবের পদও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বুলেটিন বন্ধ হয়ে গেল বলে কেউ কেউ শোরগোল তুলে কাদা–‌ছোড়াছুড়ি করছেন।’‌সোমবার বারোটা পর্যন্ত করোনা–‌আক্রান্তের সংখ্যা এ রাজ্যে ৬১। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌যতক্ষণ না মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন, ততক্ষণ সংখ্যা বাড়বে। এটা নতুন রোগ। এই ৬১ জনের মধ্যে ৫৫ জন ৭টি পরিবারের সদস্য। বাংলা এত বড় জায়গা। উত্তর–পূর্ব ভারতের গেটওয়ে। বিহার, ওডিশা ও ঝাড়খণ্ডেরও গেটওয়ে। ৯৯ শতাংশ আক্রান্তের সঙ্গে বিদেশি যোগ র‌য়েছে। আমাদের চিন্তা করতে হবে, কীভাবে আমরা এই নতুন রোগ থেকে বেরোনোর পথ খুঁজে পাব। কীভাবে সামাজিক সচেতনতা বাড়িয়ে নিজেদের সমস্যা নিজেরা মেটাতে পারব। এ–‌সব না করে শুধু অপপ্রচার করে যাওয়া কাজের কথা নয়।’‌ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌কেউ কেউ বড় বড় কথা বলছেন। তঁাদের বলি, কেন্দ্রের কাছ থেকে ৫ লক্ষ পিপিই চেয়েছিলাম। এত দিন বাদে ৩ হাজার পিপিই ওরা দিয়েছে।’‌ তিনি জানান, এ দেশে ২১ জানুয়ারি প্রথম আক্রান্ত ধরা পড়ে। ৩১ মার্চ লকডাউন ঘোষণা হয়। তার পর এত দিন বাদে দয়া করে কেন্দ্র মাত্র ৩ হাজার পিপিই পাঠিয়েছে। আবার সেগুলো হলুদ রঙের!‌’‌ কোভিড–‌এর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য হলুদ রঙ কেন, তা নিয়ে বিস্মিত মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‌এত দিন সাদা নীল অথবা ছাই রঙের পিপিই দেখা গেছে। কখনও কখনও গোলাপি রঙেরও দেখা যায়। কিন্তু হলুদ রং দেখে আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি আমি। কেন এটা হলুদ রং করা হল, তা আমাকে দেখতে হবে।’‌ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌এন–‌‌৯৫ মাস্ক দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ হাজার। কিছুই কাজ না করে শুধু শুধু আইটি সেলকে দিয়ে মিথ্যে খবর রটাচ্ছে।’‌
লকডাউনের জেরে চা–‌বাগান এখনই খুলছে না। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের চা–‌বাগানগুলি খুলে স্বাভাবিক কাজকর্ম করার জন্য রাজ্যকে অনুমতি দিতে বলেছে। কিন্তু বাগানের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য–‌সুরক্ষার স্বার্থে রাজ্য সরকার এখনই বাগান না চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার নবান্নে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌বাগান খোলার ব্যাপারে কেন্দ্র সরকার সবুজ–‌সঙ্কেত দিয়েছে। কিন্তু কালিম্পঙে একই পরিবারের ১১ জন করোনায় আক্রান্ত। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি আসাম, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী হওয়ায় রোগ সংক্রমণের বেশ কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। তাই বাগানগুলি এখনই না খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’‌ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌শ্রমিকেরা ভয় পাচ্ছেন। তাই এখনই চা–‌বাগান খোলা যাবে না।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top