রিনা ভট্টাচার্য
করোনার ধাক্কায় ডাকঘর খোলা থাকলেও, টাকা তোলা ও জমা দেওয়া ছাড়া আর কোনও কাজই হচ্ছে না। এর ফলে সমস্যায় পড়ছেন প্রবীণ নাগরিকেরা। বেশি সুদের আশায় বহু প্রবীণ নাগরিকই সিনিয়র সিটিজেন স্কিম–এ টাকা রেখেছেন। ৫ বছর অন্তর এই প্রকল্পের পুনর্নবীকরণ করতে হয়। আর সেখানেই সমস্যা। লকডাউনের জেরে ডাকঘরে এমনিতেই কর্মীর সংখ্যা কম। ভিড় কমাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শুধুমাত্র টাকা তোলা ও জমা দেওয়ার কাজ হচ্ছে। ফলে পুনর্নবীকরণের কাজ বন্ধ। যত দিন এই কাজ বন্ধ থাকবে, তত দিনের সুদ পাবেন না তঁারা। ডাক বিভাগের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, ‘‌বিষয়টি আমাদের মাথায় রয়েছে। আমরা দিল্লিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তঁারা দেখছেন কীভাবে প্রবীণেরা সমস্যা থেকে রেহাই পান। পুরনো তারিখ থেকেই পুনর্নবীকরণের সুবিধা দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে চিন্তা–‌ভাবনা চলছে।’‌
ডাক বিভাগের এই আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না প্রবীণেরা। হাওড়ার কাসুন্দিয়ার বাসিন্দা গৌরমোহন সাহা জানালেন, ‘‌সিনিয়র সিটিজেন স্কিমে তঁার পুনর্নবীকরণের তারিখ ছিল মার্চ মাসে। স্থানীয় ডাকঘরে বার বার গিয়েও কবে পুনর্নবীকরণ করা হবে তার সদুত্তর পাননি। এমনিতেই এপ্রিল থেকে সুদ কমে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার কোন্‌ প্রকল্পে কত সুদ কমছে তার তালিকা ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে।’‌ তঁার কথায়, মার্চ মাসে পুনর্নবীকরণ করতে পারলে পুরনো হারেই সুদ পাওয়া যেত। এবার পুরনো তারিখে পুনর্নবীকরণ করতে না পারলে এই ক’‌দিনের সুদ তো পাওয়া যাবে না। আবার নতুন হারে সুদ পেলে অনেক টাকাই লোকসান হয়ে যাবে। ‘‌অবসরের পর প্রাপ্য টাকার বেশির ভাগ অংশটাই এই স্কিমে রেখেছিলাম। তিন মাস অন্তর একটা বড় অঙ্কের সুদ পাওয়া যাবে। ভেবেছিলাম বৃদ্ধ বয়সে মূলত চিকিৎসার ক্ষেত্রে আর্থিক সমস্যা হবে না।’‌ শুধু গৌরবাবুই নন, রাজবল্লভপাড়ার অজয় রায়, বাগবাজারের বিকাশ দাস, নৈহাটির অতুল সুর— প্রত্যেকের মুখেই এই হতাশায় সুর।
প্রসঙ্গত, সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমে মার্চ পর্যন্ত সুদের হার ছিল ৮.‌৬ শতাংশ। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সুদের হার কমে দঁাড়াচ্ছে ৭.‌৪ শতাংশ।  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top