আজকালের প্রতিবেদন
আলো নিভিয়ে প্রদীপ জ্বালানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান শুনে শহর ও শহরতলি জুড়ে সোমবার রাতে ফাটল বাজি। বাতাসে বাড়ল দূষণ। তবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের এ ব্যাপারে বক্তব্য, ‘‌প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের বিরোধিতা যাঁরা করেছিলেন, মানুষ বাজি ফাটিয়ে তাঁদেরই জবাব দিয়েছেন।’‌ এই বাজি ফাটানো ঘিরে মানুষের বিরক্তি উৎপাদন হলেও দিলীপ ঘোষের সমর্থন তাঁর বক্তব্যেই পরিষ্কার। 
রবিবার রাতে কলকাতায় ব্যাপক হারে শব্দবাজি পোড়ানোর জন্য ১২৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৪১ কেজি শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রবিবার রাতেই ৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারপর আরও গ্রেপ্তার হয়েছে। রবিবার রাত ৯টায় ৯ মিনিট আলো নিভিয়ে প্রদীপ, মোমবাতি, টর্চ জ্বালানোর পরেই শুরু হয়ে যায় শব্দবাজির তাণ্ডব। ওড়ানো হয় ফানুস। কলকাতা ও তার আশপাশের জেলা থেকে ব্যাপক হারে শব্দবাজি পোড়ানোর খবর আসে। কলকাতা পুলিশ প্রস্তুত ছিল। হঠাৎই শব্দবাজি ফাটতে শুরু করায় দ্রুত পদক্ষেপ করে। বিভিন্ন বহুতলের ওপর থেকে শব্দবাজি পোড়ানো হয়েছে। লকডাউন ভেঙে রাস্তায় নেমেও বাজি পোড়ানো হয়েছে। সোমবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত কারা শব্দবাজি পুড়িয়েছে, তার তল্লাশি চলেছে। লকডাউন ভাঙার জন্য ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বহু বাড়িতেই শব্দবাজি মজুত ছিল। শব্দহীন শহরে বাজি পোড়ানো দেখে অনেক মানুষই হতচকিত হয়ে গেছেন। হঠাৎ করে শব্দবাজির দাপট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ছেয়ে গেছে। কেউ কেউ বিস্মিত হয়েছেন। কেউ বা প্রশ্ন করেছেন, মোমবাতির বদলে পটকা কেন?‌‌ বিধাননগর কমিশনারেট লকডাউন ভাঙা ও শব্দবাজি ফাটানোর জন্য ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে, বাজি পোড়ানোর ফলে কলকাতার বাতাসের নির্মলতা সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (‌একিউআই) ঘোরাফেরা করেছে ১০০ থেকে ১৫০–র মধ্যে। যা সন্তোষজনক বলা চলে। সোমবার সকাল ১০টায় পার্ক স্ট্রিটের মার্কিন দূতাবাসের এয়ার মনিটরিং ইউনিট অনুযায়ী, একিউআই ছিল ১৫১। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণের এক কর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আলো নিভিয়ে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বানের আগে ফোর্ট উইলিয়ামের একিউআই ছিল ৯৪, সোমবার তা বেড়ে হয়েছে ১০১। রবীন্দ্র সরোবরে ছিল রবিবার রাত ৯টায় ৭০, সোমবার তা হয়েছে ১০২। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের ওই কর্তার কথায়, ‘‌করোনা সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের ফলে গত এক সপ্তাহে কলকাতার বাতাসের মান উল্লেখযোগ্যভাবে ভাল হয়েছিল। কলকারখানা, যানবাহন বন্ধ। কিন্তু হঠাৎ বাজি ফাটানোয় বেশ কিছু এলাকার বাতাস দূষিত হয়েছে।’‌ পরিবেশবিদ সোমেন্দ্রনাথ ঘোষ জানিয়েছেন, কোনও কিছু পুড়লেই দূষণ হয়। ১০ মিনিট বাজি পুড়লেও দূষণ কণিকা বাতাসে মিশে যায়, তা কিছুদিন থাকে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top