তারিক হাসান: এবারের লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে শতাংশের বিচারে সব থেকে বেশি ভোট পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারা পেয়েছে ৪৩.‌২৮ শতাংশ ভোট। যা ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় ৩.‌৪৯ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিজেপি। ২০১৪–র তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ভোট বাড়িয়ে তারা পেয়েছে ৪০.‌২৫ শতাংশ ভোট। গতবার তারা পেয়েছিল ১৭.‌০২ শতাংশ ভোট। উল্লেখযোগ্য ভাবে কম ভোট পেয়েছে বামেরা। গতবার লোকসভা নির্বাচনে বামেরা পেয়েছিল ২৯.‌৯৫ শতাংশ ভোট। এবার তা অনেক কমে হয়েছে মাত্র ৭.‌৪৬ শতাংশ। এর মধ্যে সিপিএম পেয়েছে ৬.‌২৮ শতাংশ ভোট। গত লোকসভায় নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ২২.‌৯৬ শতাংশ ভোট। বাকি ৬.‌৯৯ শতাংশ পেয়েছিল ৩ শরিক দল। এবার বামেদের তিন শরিক সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আরএসপি–‌র ভোট কমেছে বেশ খানিকটা। সিপিআই ০.‌৪০, ফরওয়ার্ড ব্লক ০.‌৪২ এবং আরএসপি ০.‌৩৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তাদের প্রাপ্ত ভোট নোটার চেয়েও কম। নোটায় ভোট পড়েছে ০.‌৯৬ শতাংশ। তিন বাম শরিক দল সম্মিলিত ভাবে পেয়েছে মাত্র ১.‌১৮ শতাংশ ভোট। কংগ্রেস পেয়েছে ৫.‌৬১ শতাংশ ভোট। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ৯.‌৬৯ শতাংশ ভোট। ২০১৬–র বিধানসভা নির্বাচনে তারা বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়েছিল। ভোট বেড়ে হয়েছিল ১২.‌২৫ শতাংশ। সেই হিসেবে এবার তাদের ভোটও কমে অর্ধেক হয়ে গেছে। বহুজন সমাজ পার্টি পেয়েছে ০.‌৩৯ শতাংশ ভোট। অন্য আরও কয়েকটি দল এবং নির্দলের ঝুলিতে গেছে ২.‌৪৩ শতাংশ।
২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি–‌র এ রাজ্যে ভোট কমেছিল। পেয়েছিল ১০.‌১৬ শতাংশ। বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ। বিজেপি–‌র এই বৃদ্ধির জন্য তৃণমূল দায়ী করেছে সিপিএম তথা বামেদের। তাঁদের বক্তব্য, সিপিএমের ভোট বিজেপি–‌র দিকে গিয়ে বহু আসনে জিতিয়েছে। বাঁকুড়ার সিপিএম জেলা সম্পাদক অমিয় পাত্র বলেছেন, ‘‌অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের বাড়িঘরও ভাঙচুর হয়েছে। তাই তাঁরা হয় তো সাময়িক ভাবে বিজেপি–‌কে ভোট দিয়েছেন। তবে এই ভোট চলে যাওয়া সাময়িক।’‌‌‌‌

 

ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top