অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তিনিকেতন: ফের বিতর্কিত কথা বললেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। শুক্রবার বিশ্বভারতী আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে গেলেন তিনি। এদিন তিনি শুধু বিশ্বভারতীতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, গান্ধীজির জন্মদিনে দিল্লির রাজঘাটের অনুষ্ঠান নিয়েও রীতিমতো বিতর্কিত মন্তব্য করেন। একুশের অনুষ্ঠানে বক্তৃতার মাঝে দিল্লির গান্ধী জন্মজয়ন্তীর প্রসঙ্গ টেনে উপাচার্য বলেন, ‘‌২ অক্টোবর গান্ধীজির জন্মদিনে রাজঘাটে ঢোকা যায় না। সারা দেশের যত বড় বড় চোর টুপি পরে সেখানে বসে থাকেন। আর সারা বছর তাঁরা সেটাই করে থাকেন, যা গান্ধীজি আপত্তি করতেন।’‌
বিশ্বভারতীর বর্তমান অবস্থা সম্বন্ধে এদিন উপাচার্য বলেন, ‘‌বিশ্বভারতী এখন অসুস্থ। বিশ্বভারতীকে কৃত্রিম শ্বাস–প্রশ্বাসের মধ্যে দিয়ে চলতে হচ্ছে।’‌ বিশ্বভারতীর অধ্যাপক, কর্মী, স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি, এমনকী সাংবাদিকদের নিশানা করেও উপাচার্য এদিন আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‌আজ বিশ্বভারতী অনেকের রোজগারের জায়গা। বিশ্বভারতীতে দাঁড়িয়ে আমাদের অনেকের পেট চলছে। এ কথা বললে হয়তো খুব খারাপ শোনায়, সাংবাদিক বন্ধুরাও কিন্তু তাঁদের সংসার চালাচ্ছেন। বিশ্বভারতীর গল্প না পেলে তাঁদের খবরের কাগজে লেখা হয় না। আমার বক্তব্যের ভিডিও রেকর্ডিং ভাইরাল করে দেওয়া হচ্ছে। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। এখানকার ব্যবসায়ী সমিতি পৌষমেলায় দোকান না করলে, তাদের উপার্জন হয় না। বসন্ত–উৎসব না হলে এখানকার হোটেল ব্যবসায়ীদের রোজগার হয় না। অর্থাৎ কিনা বিশ্বভারতী হচ্ছে সেই সোনার হাঁস, যে হাঁস সোনার ডিম দিচ্ছে।’‌
একুশের অনুষ্ঠানে বিশ্বভারতীর অধ্যাপক ও কর্মীদের উদ্দেশেও ক্ষোভ উগরে দিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘‌উপাচার্য ও অন্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির ও লুঠতরাজের কেস করে দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ী সমিতি, যাদের সঙ্গে বিশ্বভারতীর কোনও লেনাদেনা নেই, তারাও বিশ্বভারতীতে এসে উপাচার্যকে গালিগালাজ করে যাচ্ছে, বাপ-মা তুলে। আমরা চুপচাপ সহ্য করে যাচ্ছি। ভাবছেন, এটা তো উপাচার্যকে দিচ্ছে, আমাদেরকে তো দিচ্ছে না।’‌ উপাচার্যের এদিনের বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন স্থানীয় অনেকেই। তাঁদের বক্তব্য, ‘‌একুশের অনুষ্ঠানকে উপাচার্যের ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও মত প্রকাশের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত হয়নি।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top