আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশে করোনাভাইরাসের টিকাপ্রদান কর্মসূচি শুরু হয়ে গেল। রাজ্যের ২০৭ টি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে টিকাকরণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রথম দফায় টিকাকরণের জন্য চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। টিকাকরণের জন্য অনেক আগেই তাঁদের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল। আপাতত কোভিশিল্ড প্রতিষেধকটিই তাঁদের শরীরে প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, তাঁদের তালিকা অনুযায়ী প্রথম দফায় রাজ্যের মোট ৬ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়া হবে। শনিবার কলকাতার ১৯ টি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাকরণ শুরু হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০০ জন করে রোগীকে প্রতিদিন টিকা দেওয়ার লক্ষ রাখা হয়েছে। নবান্ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শনিবার টিকাকরণ কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল সাড়ে ১০ টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোটা দেশে টিকাকরণের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কলকাতার যে যে জায়গায় টিকাকরণ শুরু হচ্ছে, সেগুলি হল– এসএসকেএম, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ, নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, চিত্তরঞ্জন সেবা সদন, স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন, বিধানচন্দ্র রায় শিশু হাসপাতাল, বেলেঘাটা আইডি, এম আর বাঙুর হাসপাতাল ও বরো ২–এর অধীনে হাতিবাগানে আর্বান প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ইউপিএইচসি)–১১, বরো ৩–এর সিআইটি রোডের ইউপিএইচসি–৩১, বরো ৭–এর ডি সি দে রোডের ইউপিএইচসি–৫৭, বরো ৯–এর চেতলা সেন্ট্রাল রোডের ইউপিএইচসি–৮২, বরো ১১–এর বোড়াল মেন রোডের ইউপিএইচসি–১১১। এ ছাড়াও রয়েছে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল– ঢাকুরিয়া আমরি, রবীন্দ্রনাথ টেগোর, অ্যাপোলো, পিয়ারলেস এবং টাটা মেডিক্যাল সেন্টার।
রাজ্যের তরফে ৭ জন বিশিষ্ট চিকিৎসকের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাঁরাও আজ প্রতিষেধক নেবেন।
এই টিকাকরণ মূলত তিনটি ধাপে হবে। হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে প্রথমে ‘কোউইন’ অ্যাপে নাম ও পরিচয় নথিভুক্ত করতে হবে সাধারণ মানুষকে। তারপর প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে তাঁদের। সেখান থেকে আলাদা ভাবে ‘অবজারভেশন রুম’–এ বেশ কিছুক্ষণ রেখে তাঁদের পর্যবেক্ষণ করা হবে। তারপরই শরীরে প্রয়োগ করা হবে কোভিড টিকা। কোভিশিল্ডের দু’টি ডোজ করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর বলে প্রমাণিত। তাই প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজটিও নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রথম ডোজটি নেওয়ার পর কবে, কোথায় দ্বিতীয় ডোজটি নিতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোবাইলে সেই তথ্য চলে যাবে। আর প্রথম ডোজটি যদি কেউ কোভিশিল্ড নেন, দ্বিতীয় ডোজটিও কোভিশিল্ডেরই হতে হবে। 

জনপ্রিয়

Back To Top