মিল্টন সেন, হুগলি: হাইকোর্টের নির্দেশ। ফিরিয়ে দিতে হবে খেলার মাঠ। আর সেই মাঠ বাঁচাতে পথে নেমে আহত পুরসভার উপপুরপ্রধান, কাউন্সিলর–সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার কোন্নগর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিরকুল এলাকার ঘটনা।
প্রোমোটরের হাত থেকে খেলার মাঠ বাঁচানোর আন্দোলনকে ঘিরে বেশ কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত ওই এলাকা। আদালতের নির্দেশে পুলিশ মাঠ দখল নেবে এই খবর পেয়ে এদিন সকাল থেকেই বাসিন্দারা একত্রিত হয়েছিলেন খেলার মাঠে। স্থানীয় ছেলেরাও ফুটবল খেলতে মাঠে নেমে পড়ে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে ওই ফাঁকা জমি এলাকায় খেলার মাঠ হিসেবেই পরিচিত। এমনকী সংলগ্ন বেশ কয়েকটি স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ওই মাঠেই হয়। বাসিন্দাদের দাবি, হঠাৎ এক ব্যক্তি এই মাঠ নিজের সম্পত্তি বলে দাবি করেছেন। ওই দাবি ভিত্তিহীন। সম্পূর্ণ মিথ্যে।
যদিও জমির মালিক অমিত ব্যানার্জি জানান, ৩৫ বছর ধরে তাঁদের জমি বেদখল। নিম্ন আদালতে রায় হয়েছে। তবু জমি ফিরে পাননি। বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টের রায়ে এদিন চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল পুলিশ বাহিনী হাজির হয় মাঠে। উত্তেজনা ছড়ায়। উত্তরপাড়া থানার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করে। মাঠ ছেড়ে চলে যেতেও বলা হয়। আর তা না মানায় বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করে মাঠকে দখলমুক্ত করে পুলিশ। ধস্তাধস্তিতে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোনালিসা নাগের হাত ভাঙে। দাঁত ভাঙে কোন্নগর পুরসভার উপপুরপ্রধান গৌতম দাসের। কিছু সিভিক ভলান্টিয়ারের অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পরে বিক্ষোভকারীরা জিটি রোড অবরোধ করলে পুলিশ সেখানে গিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে জিআই শিট দিয়ে মাঠ ঘিরে দেওয়া হয়। জমির দখল ফিরে পেয়ে অমিত ব্যানার্জি বলেন, দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের জয় হল।

বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পুলিশ। ছবি:‌ সৌগত রায়‌

জনপ্রিয়

Back To Top