আজকালের প্রতিবেদন- জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার মৌলালি থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত প্রতিবাদ–মিছিল করল তৃণমূল। মিছিলের শেষে বক্তব্য পেশ করেন পার্থ চ্যাটার্জি, ফিরহাদ হাকিম, অভিষেক ব্যানার্জিরা। ‌মিছিলে হাঁটেন সুব্রত বক্সি, শশী পাঁজা প্রমুখ। মিছিল থেকে স্লোগান ওঠে, ‘জ্বালানির দাম কমাতে হবে। জনবিরোধী নীতি নেওয়া চলবে না।’ বক্তৃতায় অভিষেক বলেন, ‘‌মমতা যেদিনই বলবেন, সেদিন আমরা আবার রাস্তায় নামব। আমরা প্রস্তুত আছি। ১০ হাজার মামলা করলেও আমাদের কেউ রুখতে পারবে না।’‌ পার্থ বলেন, ‘‌বন্‌ধ তো চোখে পড়ল না!‌’‌ ফিরহাদের কথায়, ‘‌বিজেপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে।’‌ 
ইয়ংবেঙ্গল (‌নয়া বাংলা)‌ প্রসেনজিৎ বসুর নেতৃত্বে পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এদিন জিএসটি অফিসের সামনে অবস্থান করা হয়।  ‌
অন্যদিকে, রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু দাবি করেন, ‘কোথাও মিশ্র, বাকি জায়গায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে হরতালের। শাসকদল ও পুলিসের সক্রিয় চেষ্টা সত্ত্বেও রাজ্যের মানুষ বামেদের ডাকা প্রতিবাদ হরতালকে সমর্থন করেছেন। এজন্য রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদ।’ এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলায় বামেরা মিছিল, পথ অবরোধ, রেল অবরোধ করে। কোথাও কোথাও পুলিসের সঙ্গে সংঘর্ষ, ধস্তাধস্তিও হয়। এন্টালি থেকে বামফ্রন্ট ও সহযোগী সমস্ত বামদলের শীর্ষনেতারা মিছিল করেন। মিছিলে ছিলেন বিমান, সূর্যকান্ত মিশ্র, মনোজ ভট্টাচার্য, পার্থ ঘোষ, সমীর পুততুন্ড প্রমুখ। ফরওয়ার্ড ব্লক হরতালের ইস্যুকে সমর্থন করলেও সরাসরি হরতালে অংশ নেয়নি। সূর্যকান্ত দাবি করেন, ‘২২টি জেলাতেই হরতালের প্রভাব পড়েছে। আগস্ট–সেপ্টেম্বর জুড়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বামপন্থীরাই লাগাতার রাস্তায় আছেন। আরও তীব্র হবে এই সংঘর্ষ।‌‌’ 
আবার রাজ্য বিজেপি–র সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি, মোদি সরকারের আমলে পেট্রোল–‌ডিজেলের দাম নাকি তেমন বাড়েইনি! তাঁর মতে, ‘দাম তেমন বাড়েনি বলে ভারত বন্‌ধের কোনও যুক্তি নেই। মোদি সরকারের ৪ বছরে পেট্রোলের দাম বেড়েছে প্রতি বছর মাত্র ২ টাকা করে। আর মনমোহন সিংয়ের আমলে সেই বৃদ্ধি ছিল প্রতি বছরে ৩.‌৮০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর ভারতের পেট্রোল–‌ডিজেলের দাম নির্ভর করে। এতে সরকারের কোনও হাত নেই। বিরোধীরা এ নিয়ে শোরগোল তুলে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন।’ 
দিলীপের বরং দাবি, ‘মহারাষ্ট্র, ‌গুজরাটের মতো রাজ্যে সরকার তেলের ওপর  কর কমিয়েছে। অন্য রাজ্যগুলিও কর কমিয়ে মানুষকে ছাড় দিতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে সরকার তেমন করেনি। উল্টে তেলের বর্ধিত দামের জন্য রাজ্য বাড়তি টাকা রোজগার করছে।’ তাঁর আরও দাবি— মোদি সরকারের সময় জাতীয় সড়কগুলির যেভাবে উন্নতি হয়েছে, তাতে তেলের খরচ বরং কমেছে। তাছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকারের জন্যই তেল, নুন, চাল, ‌ডালের মতো রোজকার ব্যবহারের খাদ্যসামগ্রীর দাম বাড়েনি।’

তৃণমূলের মিছিলে মন্ত্রী  শোভনদেব চ্যাটার্জি, শশী পাঁজা। ছবি: অভিজিৎ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top