‌স্নেহাশিস সৈয়দ, বহরমপুর: লিঙ্গ পরিবর্তন করে রিন্টু মালিত্যা হয়ে উঠেছিলেন পায়েল খাতুন। পুরুষ থেকে নারী হয়েছিলেন সম্পূর্ণ ভালবাসার টানে। তঁার এই পরিবর্তনে সবসময় পাশে ছিলেন প্রেমিক শুকচাঁদ শেখ। মাস পাঁচেক হল সেই শুকচঁাদকেই বিয়ে করে সংসার পেতেছিলেন পায়েল। শুকচঁাদ শ্রমিকের কাজ করেন বেঙ্গালুরুতে। সেখানেই সংসার শুরু করেন তঁারা। কিন্তু বর্তমানে তঁাদের এই বিয়ে মেনে না নিয়ে শুকচঁাদকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছেন তার পরিবারের লোকেরা। তাই বাধ্য হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন পায়েল। 
জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের নওদা থানার আমতলার বাসিন্দা রিন্টু মালিত্যার নাচ–গানের শখ ছেলেবেলা থেকেই। গত বছর আমতলা হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর পড়াশোনায় ইতি টানেন। পরে একটি নাচের দলের যোগ দিয়ে নানা জায়গায় নাচ করে আয় করতে শুরু করেন। রূপান্তরিত হয়ে শুকচঁাদকে বিয়ে করার পরেই তঁার পরিবারও বেঁকে বসেছে। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে শুকচঁাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা যাবে না। সম্প্রতি ছুটিতে গ্রামের বাড়ি এসেছিলেন শুকচঁাদ। তারপর থেকেই আর দেখা মিলছে না তঁার। পায়েল জানান, শুকচাঁদের বাড়ির লোক তঁাকে বিচ্ছেদের মামলা করতে চাপ দিচ্ছেন। অন্যদিকে, শুকচঁাদের সঙ্গে যোগাযোগের সব রাস্তাই বন্ধ করে দিয়েছেন তঁারা। বিষয়টি নিয়ে নওদা থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পায়েল বলেন, ‘‌গত নভেম্বর মাসে বেঙ্গালুরু যাওয়ার পথে ট্রেনে০ আলাপ হয় দুজনের। শুকচঁাদ আমাদের এলাকারই ছেলে। কাজ করে বেঙ্গালুরুতে। সেই আলাপই ক্রমে গড়িয়েছিল পরিণয়ে।’‌ পায়েলের দাবি, শুকচঁাদের অনুরোধেই চলতি বছরে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে রূপান্তরিত হন পায়েল। তারপর নিয়ম মেনে বিয়েও করেন তঁারা। বিয়ের খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছতেই, বিয়ে মেনে নেওয়া হবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুকচাঁদকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয়। আর গ্রামে পা দিতেই তঁাকে ঘরবন্দি করা হয় বলে অভিযোগ। পায়েল বলেন, ‘‌অন্যায় তো করিনি আমরা, তাই মেনে না নেওয়ার কী আছে?’‌ পুলিশ শুকচাঁদের পরিবারকে থানায় ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

জনপ্রিয়

Back To Top