তারিক হাসান: নোট–বাতিলের গুঁতোয় ২০০০ আর ৫০০ টাকার নতুন নোট বাজারে আনতে গিয়ে দীর্ঘদিন ছাপাই হয়নি ১০ আর ১০০ টাকার নোট। উল্টে সেই সময় নগদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভল্টে রাখা বাতিল, নষ্ট করে দেওয়ার জন্য রাখা ১০ আর ১০০ টাকার নোট ফের বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই টাকাই হাত বদল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর তাই জীর্ণ, নোংরা, ছেঁড়া নোট ছেয়ে গেছে বাজারে। বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে খুচরো ফেরাতে গিয়ে মাছওয়ালা বা দোকানদার হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন ছেঁড়া, সেলোটেপ মারা ১০ টাকার নোট। অনেক সময় এরকম ১০০ টাকার নোটও ধরিয়ে দিচ্ছেন। আর তাই নিয়ে দোকানদার, ক্রেতার মধ্যে বচসা বেধে যাচ্ছে।
অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি রাজেন নাগর জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে নোট–বাতিল কাণ্ডের আগে প্রচুর জীর্ণ, ছেঁড়া ১০০ আর ১০ টাকার নোট রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভল্টে জমা ছিল। যা বাতিল এবং নষ্ট করে দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল। তার বদলে নতুন ১০ টাকা এবং ১০০ টাকার নোট ছাপার কথা ছিল। কিন্তু নোট–বাতিল কাণ্ডের সময় তা স্থগিত রেখে নতুন ৫০০ এবং ২০০০ টাকার নোট ছাপা শুরু হয়। নতুন ছোট নোট ছাপা শুরু হতে পারেনি। পরে গত বছর নতুন চেহারার কিছু ১০ টাকার নোট বাজারে ছাড়া হলেও তার পরিমাণ খুবই কম। এর পাশাপাশি গ্রাহকরা ছেঁড়াফাটা ১০০ আর ১০ টাকার নোট বদলানোর জন্য ব্যাঙ্কে ফেরত দিয়ে গেলেও নতুন করে সেগুলি আবার বাজারে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। নতুন ১০০ টাকার নোট ছাপারও কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষকে নোংরা, ছেঁড়া নোট নিয়ে হয়রানিতে পড়তে হচ্ছে।
ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের সংগঠনের অভিযোগ, নোট–বাতিল কাণ্ডে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে যে বিশাল আর্থিক খরচের সম্মুখীন হতে হয়েছে, তার জেরেই পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুন ১০০ আর ১০ টাকা ছাপার কাজ। জানা গেছে, এরকম বাতিল, ছেঁড়া ১০ আর ১০০ টাকার নোট আরও কিছুদিন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তারপর হয়তো নতুন ১০ আর ১০০ টাকা ছাপার কাজ শুরু হবে। ফলে ছেঁড়া নোটের ভোগান্তি চলবে।‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top