অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: কেউ গেছিলেন তীর্থ করতে। কেউবা বেড়াতে। কেউ আবার লেখাপড়ার জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন। সকলেই আপ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে করে ফিরছিলেন। গন্তব্য ছিল অসম হয়ে ত্রিপুরা। কিন্তু অসমগামী অধিকাংশ ট্রেনই দাঁড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকায়। অন্তত ৫০ রেলযাত্রী আটকে পড়েছেন নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশনে। কনকনে ঠান্ডার মধ্যে রাত কাটাতে হয়েছে। অভিযোগ, খোঁজ নেননি রেলের কোনও আধিকারিক। শনিবার সকালে স্টেশনে পৌঁছে গেলেন আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল নেতারা। স্টেশনে অসহায় ৫০ যাত্রীর জন্য নিয়ে গেলেন খাবার, শীত থেকে বাঁচাতে হাতে তুলে দিলেন কম্বল। 
তৃণমূলের তরফে জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী, বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী প্রথম স্টেশনে পৌঁছন। ৫০ জন যাত্রীকে খাওয়ানো হয়। দ্বিতীয় দফায় দুপুর ২টা নাগাদ নিউ আলিপুরদুয়ার রেল স্টেশন চত্বরেই ভাত, ডাল, দু’‌রকমের সবজি দিয়ে গরম গরম খাবার পরিবেশন করা হয়। সৌরভ চক্রবর্তী ৫০টি কম্বল নিয়ে এসে সকলের হাতে তুলে দেন। তৃণমূলের গোটা আয়োজন দেখে আপ্লুত ত্রিপুরার হরিপদ দেবনাথ বলেন, ‘‌প্রায় অভুক্ত ছিলাম আমরা। রেলের তরফে খোঁজ নেওয়া হয়নি। মনে হচ্ছে প্রাণ ফিরে পেলাম।’‌ তীর্থযাত্রী স্বপ্না দেবনাথ বলেন, ‘‌যে আতিথেয়তা দেখানো হল, তা কোনও দিন ভুলব না।’‌
এদিকে, রেলের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে সৌরভ বলেন, ‘‌এখান থেকে ডিআরএমের অফিস মাত্র চার কিমি দূরে। ৪৮ ঘণ্টায় একজন রেল অফিসার স্টেশনে আসতে পারলেন না!‌ রেল চাইলে নিজেদের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ফান্ড থেকে কিছু সাহায্য করতে পারত। যে মানুষগুলি আটকে পড়েছেন, তাঁদের বাড়ি ফেরার একটা ব্যবস্থা করতে পারত। কিন্তু শুধু টিকিটের টাকা রি–ফান্ড করে দায়িত্ব শেষ করেছে।’‌ সৌরভের কথায়, ‘‌জেলাশাসক ও সদর মহকুমাশাসক দু’‌জনকেই গোটা ঘটনা জানানো হয়েছে। প্রশাসন রেলযাত্রীদের পাশে থাকবে। তৃণমূল কর্মীদের বলা হয়েছে যাত্রীরা কোনও সমস্যায় পড়লে এগিয়ে আসতে।’‌ ডিআরএম কে এস জৈন গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top