আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অনেক চেষ্টাতেও অ্যাম্বুল্যান্স জোগার করতে পারেনি পরিবার। এদিকে রোগীর দেহে কোভিডের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। তাই আত্মীয়, প্রতিবেশিরাও সাহায্যে এগিয়ে আসেননি। অগত্যা এগিয়ে এলেন স্থানীয় এই যুব তৃণমূল নেতা। পিপিই পরে বাইকে চাপিয়ে রোগীকে নিয়ে গেলেন কাছের হাসপাতালে। ঝাড়গ্রামের ঘটনা। 
আক্রান্ত অমল বারিক এক জন পরিযায়ী শ্রমিক। দিন কয়েক আগে গ্রামে ফিরেছেন। তার পর থেকেই গত পাঁচ–ছ’‌ দিন ধরে জ্বর, সর্দিকাশিতে ভুগছেন। অনেক চেষ্টা করেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে পারেননি স্ত্রী। সেই কথা কানে যায় গোপীবল্লভপুরের যুব তৃণমূল নেতা সত্যকাম পটনায়েকের। 
বোঝেন এই পরিস্থিতিতে কাউকে পাশে পাওয়া যাবে না। তাই নিজেই নেমে পড়েন মাঠে। বললেন, ‘‌ভাবি, এভাবে কাউকে পড়ে থাকতে দেওয়া যায় না।’‌ তাই কাছের ওষুধের দোকান থেকে একটি পিপিই কিট কিনে নেন। দলীয় কর্মীদের একটি বাইক জোগার করে দিতে বলেন।
৪৩ বছরের অমল থাকেন সিজুয়া গ্রামে। সোমবার তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান সত্যকাম। বললেন, ‘‌অমলের স্ত্রী খুবই চিন্তিত ছিলেন। বারবার হাসপাতাল যাওয়ার অনুরোধ করেন। আমি তাঁকে বুঝিয়ে বাড়িতেই থাকতে বলি। তার পর অমলকে নিয়ে রওনা হই।’‌ গোপীবল্লভপুরের সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে অমলকে নিয়ে যান তৃণমূল নেতা। সেখানে চিকিৎসকরা কিছু ওষুধ দিয়ে তাঁকে হোম আইসোলেশনে থাকতে বলেন। এর পর অমলকে ফের বাড়িতে ছেড়ে দিয়ে আসেন সত্যকাম। পিপিই পরে রোগীকে বাইকে চাপিয়ে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার সেই ছবি এখন ভাইরাল। ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ উমা সোরেন জানালেন, দলের যুব কর্মী, নেতারা সব সময়ই সাহায্যের জন্য প্রস্তুত। ‘‌প্রয়োজন হলে মানুষ আমাদের কাছে আসুন।’‌  
 

জনপ্রিয়

Back To Top