অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়, সিউড়ি: গভীর রাতে পরপর বোমা পড়ল তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির বাড়িতে। সোমবার গভীর রাতে সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের ইমাদপুর গ্রামের ঘটনা। এই ঘটনায় অভিযোগের তীর বিজেপি–র দিকে।
ইমাদপুর গ্রামটি সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের অবিনাশপুর অঞ্চলের মধ্যে। এই অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি রাজু মুখার্জির বাড়ির জানলা লক্ষ্য করে সোমবার রাত পৌনে দুটো নাগাদ পরপর ৩টি বোমা ছোড়া হয়। রাজুর দাবি, তঁাকে সপরিবার মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই ওই বোমাগুলি ছোড়া হয়েছিল। কিন্তু বরাতজোরে তঁারা বেঁচে গেছেন। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই বোমাবাজি করেছে বলে রাজুর অভিযোগ। তঁার কথায়, ‘‌দুষ্কৃতীরা ভাল করেই জানত যে আমি ওই জানলার কাছেই ঘুমাই। তাই ওই জানলা লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা পরপর তিনটি বোমা ছোড়ে। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় আমরা সপরিবার প্রাণে বেঁচে গেছি।’‌ রাজু জানান, তিনি তৃণমূলের অবিনাশপুর অঞ্চল সভাপতি, সিউড়ি ২ নম্বর ব্লক কমিটির সদস্য ও বনশঙ্কা গ্রাম পঞ্চায়েতের পর্যবেক্ষক। গত লোকসভা নির্বাচনে অবিনাশপুর ও বনশঙ্কা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল যথাক্রমে ৩০০০ ও ৪৭০০ ভোটে লিড পেয়েছে। তাই ভোটে সুবিধা করতে না পেরে বিজেপি এখন তঁাকেই আক্রমণের জন্য টার্গেট করেছে। তঁার দাবি, তঁাকে প্রাণে মেরে ফেলতে অথবা ভয় দেখাতেই সোমবার রাতে তঁার বাড়িতে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে। বোমার আওয়াজে গ্রামের মানুষ ঘুম ভেঙে ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা বোমা ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়। রাজুর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই ঘটনায় দেবনাথ মুখার্জি ও পতিতপাবন ডোম নামে এই গ্রামেরই দু’‌জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এই ঘটনায় তঁাদের দলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজু মুখার্জির বাড়িতে হামলার ঘটনায় বিজেপি–র কোনও যোগ নেই। ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই এই ঘটনা। এদিকে, লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই বীরভূমের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সঙ্ঘর্ষের ঘটনা ঘটে চলেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত হচ্ছে তৃণমূলের নেতা–কর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে জেলা ও রাজ্যস্তরের নেতারাও উদ্বিগ্ন। কয়েকদিন আগে সিউড়িতে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের গলায়ও সেই উদ্বেগ দেখা গিয়েছে। তবে তঁারা কর্মীদের ভীত–সন্ত্রস্ত না হয়ে রুখে দঁাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

জনপ্রিয়

Back To Top