বুদ্ধদেব দাস,মেদিনীপুর: জয় শ্রীরাম ধ্বনি না দেওয়ায় এক তৃণমূল নেতাকে বেধড়ক মারধর করল বিজেপি কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে শালবনির ভাদুতলা এলাকায়। মারের চোটে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হয়েছেন কাঞ্চন ওরফে তন্ময় চক্রবর্তী নামে ওই তৃণমূল নেতা। তিনি তৃণমূলের কর্ণগড় অঞ্চল সভাপতি। এই ঘটনায় ২ বিজেপি কর্মীকে আটক  করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই শালবনির কয়েকটি গ্রামে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি–র গোলমাল চলছিল। লোকসভা ভোটের আগে তা মারাত্মক বেড়ে যায়। জানা গেছে, রাজনৈতিক ভাবে জমি শক্ত থাকায় তৃণমূলের সঙ্গে পেরে উঠছিল না বিজেপি। ভাদুতলার পাশের গ্রাম বগছড়িতে বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল কর্মীদের নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ। তৃণমূল কর্মীদের তারা বলেছিল, ভোটের ফল বের হওয়ার পর তঁাদের তারা মেরে গ্রাম থেকে বের করে দেবে। এতে আশঙ্কিত হয়ে পড়েন বহু তৃণমূল কর্মী–সমর্থক ও তঁাদের পরিবারের লোকেরা। এই খবর পেয়ে  মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই গ্রামে গিয়ে দলীয় কর্মী–সমর্থকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি কাঞ্চন। ওইদিন রাতেই ভাদুতলায় তঁার বাড়িতে চড়াও হয় ৫০ থেকে ৬০ জন সশস্ত্র বিজেপি কর্মী। বঁাশ, লাঠি, রড, শাবল নিয়ে তঁারা জড়ো হয়। সেখানে জোরে জোরে ‘‌জয় শ্রীরাম’‌ ধ্বনি দিতে থাকে। 
পরিস্থিতি দেখতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন তৃণমূল নেতা কাঞ্চন। বিজেপি কর্মীদের তরফে তঁাকে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিতে বলা হয়। তিনি তঁাদের বলেন, ‘‌কে কী বলবে, কে কী খাবে, সেটা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। তবে তোমরা কেন মানুষের ওপর এভাবে জোর–জুলুম করছ?‌ কেন গুন্ডাগিরির পথ বেছে নিচ্ছ?’‌ সশস্ত্র বিজেপি কর্মীদের  চাপের মুখে পড়েও তিনি তাদের সঙ্গে জয় শ্রীরাম না বলায় তঁাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তঁার মাথা ফেটে যায়।  তঁাকে বঁাচাতে এসে আক্রান্ত হন বাড়ির মহিলারাও। তঁাদেরও মারধর করা হয়। বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। আধঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালানোর পর জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিতে দিতে তারা চলে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তাতেই পড়ে থাকেন তিনি। রাত ১০টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটায় সাহস করে স্থানীয়দের কেউ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে চাননি। তারা চলে যাওয়ার পর স্থানীয় মানুষজন তঁাকে উদ্ধার করে শালবনি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। বুধবার তৃণমূল নেতারা তঁাকে দেখতে যান।
শালবনির তৃণমূল নেতা নেপাল সিংহ জানান, ‘‌ওরা হারার ভয়ে ভুগছে। এর থেকেই আক্রোশবশত হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশকে জানিয়েছি, দোষীদের বিরুদ্ধে যাতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’‌ বিজেপি–র পক্ষ থেকে অবশ্য এই হামলার ঘটনা অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের তরফে বলা হয়েছে, ‘‌কাঞ্চন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গ্রামে হামলা চালানো হয়েছিল। গ্রামবাসীরা প্রতিরোধ করেন।’‌‌
এদিকে, দঁাতনের শালিকোঠা গ্রাম পঞ্চায়েতের একমালিপুর গ্রামে এক দুষ্কৃতীর বাড়ি থেকে ৪টি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দঁাতন থানার পুলিশ মঙ্গলবার গভীর রাতে হানা দেয় ওয়াশেদ খঁায়ের বাড়িতে। সেখানে তখন তারা একটি ব্যাগে বোমাগুলি ভরে রাখছিল। পুলিশ যেতেই বোমা ফেলে পালায়। তাড়া করে পুলিশ ওয়াশেদ ও মেহেরবান নামে দুজনকে ধরে ফেলে।

জনপ্রিয়

Back To Top