রিনা ভট্টাচার্য: মাস্ক না পরে রাস্তায় বেরোলে এবং সামাজিক দূরত্ব না মানলে কড়া ব্যবস্থা নেবে রাজ্য সরকার। মাস্ক না পরে বাইরে বের হলে প্রথমবার বাড়ি ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। দ্বিতীয়বার জরিমানা করা হবে। তৃতীয়বার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, ঘরের বাইরে পা দিলেই পরতে হবে মাস্ক। বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব। এই নির্দেশ অমান্য করলে মহামারী আইনের যে–‌কোনও ধারায় ব্যবস্থা নেবে রাজ্য।
জনসমক্ষে খোলা মুখ দেখলে প্রথমে পুলিশ মাস্ক পরতে বলবে। কেউ পরতে না চাইলে তাঁকে বাড়ি ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীকালে একই ভুল করলে তাঁকে জরিমানা করা হবে। তৃতীয়বারও যদি সেই একই ব্যক্তি ফের নিয়ম না মানেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন, পুরসভা, পুলিশ বিভাগকে মাস্ক নিয়ে এই নির্দেশিকা সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাস্ক না পরে বেরোনোর জন্য ইতিমধ্যে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী শহরে  বেশ কয়েকজনকে জরিমানাও করেছে পুলিশ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কে প্রথমবার ও কে দ্বিতীয়বার অপরাধ করছেন তা চিহ্নিত করা যাবে কীভাবে। পুলিশ সুত্রে খবর এই চিহ্নিতকরণ কীভাবে করা যাবে তা নিয়ে লালবাজারের শীর্ষকর্তারা আলোচনা করছেন।
লকডাউন চললেও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে রাজ্য সরকার অনেক বিষয়ে ছাড় দিয়েছে। ঘর থেকে মানুষ বেরোতে শুরু করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন করছেন করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক পরার জন্য, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য। তিনি বলছেন, ভাল করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন, স্যানিটাইজ করুন। কিন্তু মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হলেও, পরছেন না অনেকেই। যাঁরা পরছেন তাঁদের অনেকেই গলায়, কানে ঝুলিয়ে রাখছেন। কারোর চিবুক পর্যন্ত নামানো। এইভাবে বেশিরভাগ মানুষ সাইকেল, মোটরসাইকেলে, বাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বাজারগুলিতে দেখা যাচ্ছে অনেক ক্রেতা–‌বিক্রেতা মাস্ক পরছেন না। 
কথাবার্তার মধ্যে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরাও। এই দৃশ্য বদলাতে চাইছে প্রশাসন। নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধে হচ্ছে বা গরমে মাস্ক পরা যাচ্ছে না এই অজুহাত আর চলবে না। মাস্ক না পরলেই মহামারী আইন ভাঙার জন্য দোষী সাব্যস্ত হতে হবে। স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নির্দেশিকা হাতে আসার পরই পুলিশ এলাকায় এলাকায় নজরদারির ব্যবস্থা করছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top