আজকালের প্রতিবেদন: বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রামে এসে কয়েকজন কৃতী শিক্ষক–শিক্ষিকাকে সংবর্ধনা জানিয়ে গেলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রথমে তিনি একলব্য বিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যান। এরপর ঝাড়গ্রাম শহরের দেবেন্দ্রমোহন হলে আসেন। সেখানে ছিল জেলা শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান। উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‌আজ আর রাজনৈতিক কূটকাচালি নয়। তুমি ভাল আমি খারাপ, জবাব চাই জবাব দাও, এসব নয়। আসুন সকলে মিলে প্রকৃত মানুষ গড়ার কারিগরদের শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও প্রণাম জানাই।’‌ দেবেন্দ্রমোহন হল ঘর এদিন শিক্ষা অনুরাগী মানুষ, শিক্ষক–শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীতে পরিপূর্ণ ছিল। প্রধান বক্তা ছিলেন শুভেন্দু। সেখানে শুভেন্দু বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী একলব্য আবাসিক বিদ্যালয়ের পরিচালন ভার যেদিন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের হাতে তুলে দেন, সেদিন আমিও উপস্থিত ছিলাম। আর আজ এই বিদ্যালয় থেকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আদিবাসী ছেলেরা আইআইটি–তে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এটা আমাদের কাছে গর্বের।’‌ 
এদিকে, বর্ধমান টাউন হলে জেলা তৃণমূলের উদ্যোগে শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। পূর্ব বর্ধমানের ৪ জন শিক্ষক এবার ‘শিক্ষারত্ন’ পুরস্কার পান। তঁারা হলেন বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলের প্রাথমিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাপসকুমার পাল, রায়নার ভগবতীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ ঘোষাল, বর্ধমান উদয়পল্লী শিক্ষা নিকেতন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক গোপাল ঘোষাল এবং আউশগ্রাম সিলুট বসন্তপুর হাইস্কুলের সহ–শিক্ষক শামসুল আলম। অন্যদিকে, সেরা বিদ্যালয়ের পুরস্কার পেল উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর বয়েজ সেকেন্ডারি স্কুল। রাজ্য সরকারের তরফে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত ঘোষের হাতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে এই স্কুলের ছাত্র দেবাঞ্জন সরকার মাধ্যমিকে নবম হয়। ২০১৬ এবং ২০১৯ সালে সুব্রত কাপ ফুটবলে অনূর্ধ্ব ১৪ বয়েজ বিভাগে এই স্কুলের ছাত্ররা রাজ্যে সেরা হয়। স্কুলে নিজস্ব ফুটবল অ্যাকাডেমি আছে। একটু অন্যভাবে শিক্ষক দিবস পালন করলেন মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের এক গৃহশিক্ষক ও তঁার ছাত্রছাত্রীরা। পাকুরিয়ার গৃহশিক্ষক দেবাশিস সান্যাল ও তঁার পড়ুয়ারা চঁাদা তুলে সেই টাকায় বই, খাতা, পেন্সিল কিনে ভারত সেবাশ্রম ও সারদা আশ্রমের ২৭ জন দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের হাতে তুলে দেন। এমন উপহার পেয়ে খুশি ওই পড়ুয়ারা। 
প্রধান শিক্ষক রবিলাল গড়াই ১২ বছর আগেই অবসর নিয়েছেন কঁাকসা ব্লকের বিষ্ণুপুর প্রাথমিক অবৈতনিক বিদ্যালয় থেকে। চোখে ছানি পড়ার পর দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তাও বিনা পারিশ্রমিকে একটানা প্রায় ১২ বছর ধরে পড়ুয়াদের পড়িয়ে চলেছেন তিনি। এদিন শিক্ষক দিবসে বিষ্ণুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে কঁাকসা থানার পুলিশের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়  রবিলালবাবুকে। পড়ুয়ারাই তঁাকে বাড়ি থেকে হাত ধরে নিয়ে আসে। প্রতিদিন প্রার্থনায় উপস্থিতির পর শুরু হয় ক্লাস। ছাত্রছাত্রীদের তিনি নিজের নাতিনাতনির চোখে দেখেন। 
বঁাকুড়ার বড়জোড়ায় ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে স্কুলকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দান করলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ‌কিশলয় দাশগুপ্ত। তিনি ওই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। গত বছর অবসর নিয়েছেন। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকের ৩০ জন কন্যাশ্রীকে বিনামূল্যে চাকরির পরীক্ষার জন্য কোচিং দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা করলেন প্রাক্তন শিক্ষক তথা পারা বিধানসভার বিধায়ক উমাপদ বাউরি। শিক্ষক দিবসে শিক্ষিকাদের দামি দামি উপহার দেওয়া হয়। কিন্তু নোটিস দিয়ে পড়ুয়াদের কাছে আবেদন করা হয়, কোনও উপহার দেওয়া যাবে না। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের উদ্যোগে মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর হলে পালিত হল শিক্ষক দিবস। পাশাপাশি এদিন রক্তদান করতে এগিয়ে এলেন আমতার বাগুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষিকা, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা। শিবিরের উদ্বোধন করেন আমতা–১ বিডিও লোকনাথ সরকার। 
শিক্ষক দিবসেই বিপরীত ছবি দেখা গেল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারে। শিক্ষকদের তালাবন্দি করে আটকে রাখল পড়ুয়ারা। বিক্ষোভ চলল প্রধান শিক্ষকের বদলি চেয়ে। চলে ভাঙচুরও। পুলিশ এলে বিক্ষোভ থামে। বাড়ি ফেরেন শিক্ষকরা। ঘটনাটি ঘটেছে নন্দকুমারের অমর স্মৃতি বিদ্যাপীঠে।
তথ্যসূত্র:‌ সোমনাথ নন্দী, বিজয়প্রকাশ দাস, ‌নিরুপম সাহা, আবির রায়, প্রদীপ দে, আলোক সেন, দীপেন গুপ্ত, বুদ্ধদেব দাস, সুপ্রতিম মজুমদার ও যজ্ঞেশ্বর জানা
 

জনপ্রিয়

Back To Top