আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ লাল মাটির পথ। তাতে সাইকেল চেপে চলেছেন তিনি। অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। এই ছবি শান্তিনিকেতনে কমবেশি সকলেরই চেনা। ১৯৯৮ সালে নোবেল পেয়েছেন তিনি। সম্মান থেকে বঞ্চিত হয়নি সেই সাইকেলও। তা এখন রাখা রয়েছে সুইডেনের নোবেল মিউজিয়ামে। অমর্ত্য সেনের নোবেলজয়ের অংশীদার হিসেবে।
অমর্ত্য নাকি নিজেই মনে করেন, এই সাইকেল না থাকলে নোবেল পেতেন না তিনি। এই কথা মেনেছে নোবেল পুরস্কার কমিটিও। ৩ জুন ছিল বিশ্ব সাইকেল দিবস। সেদিন এই সাইকেলের ছবি নিজেদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছে নোবেল কমিটি। লিখেছে, ‘‌বাইসাইকেল এমনিতে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানের কোনও যন্ত্র নয়। তবে অমর্ত্য সেনের নোবেলজয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছিল এই সাইকেল’‌। সেই গল্পই ইনস্টাগ্রামের পেজে শুনিয়েছেন মোবেল মিউজিয়ামের কিউরেটর টোবিয়াস ডেগসেল।
অমর্ত্যর গবেষণার অন্যতম বিষয় ছিল সমাজের একেবারে নিচুতলার মানুষ। এই মানুষগুলোর কাছে ছেলে এবং মেয়েসন্তানের ফারাক কতটা, তা বোঝার জন্য একটি সমীক্ষা করেছিলেন অমর্ত্য। সেজন্য এক সহকারী নিয়োগ করেছিলেন। তাঁর কাজ ছিল, সাইকেলে চেপে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাচ্চাদের ওজন সংগ্রহ। বাচ্চারা কিছুতেই ওজন করতে চাইত না। বারবার কামড়াত সহকারীর হাতে।  
অগত্যা নিজের ছাত্র–ছাত্রীদের অমর্ত্য অনুরোধ করলেন, এই ঘুরে ঘুরে ওজন মাপার কাজটা করে দিতে। তাঁরা কেউ রাজি হলেন না। তখন তিনি নিজেই বেরিয়ে পড়লেন সাইকেলে চেপে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ওজন মাপতে। সেই তথ্য ব্যবহার করেই পরে হিউম্যান ডেভলপমেন্ট ইনডেক্স তৈরি করেন। দারিদ্র‌্য নিয়ে এই গবেষণা তাঁকে এনে দিয়েছিল নোবেল। এই গল্প পোস্ট হওয়ার সঙ্গেই সঙ্গেই ভাইরাল হয়ে যায়। 

জনপ্রিয়

Back To Top