আজকালের প্রতিবেদন‌‌: পরিবহণে রাজস্ব বেড়েছে। আড়াই হাজার কোটি টাকা রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার বিধানসভায় একথা জানিয়েছেন। 
পরিবহণমন্ত্রী বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশ অনুসারে গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য সরকারের হাতে রাজস্ব হিসেবে ২০১৯–২০ অর্থবর্ষে তিন হাজার কোটি টাকা তুলে দেওয়া। জলপথ থেকে শুরু করে সব পরিবহণের মাধ্যমকেই আমরা গতিশীল করে তুলেছি, যা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার হচ্ছে। নতুন অনেক জলযান নামানো হয়েছে। ৮৫টি নতুন জেটি হয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্কের অর্থে আরও ২৭টি জেটি হবে। দীঘা–পুরী, হলদিয়া–গুপ্তিপাড়া বিকল্প পথ তৈরি করা হবে। ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রোর কাজ চলছে। হেলিকপ্টার সার্ভিস বেড়েছে। ২৫টি হেলিপ্যাড তৈরি হয়েছে। এই বছর সাগরমেলায় থাকবে ‘‌এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’‌। ১৫ বছরের পুরনো গাড়ি কোথাও চালাতে দেওয়া হচ্ছে না। ১৫ বছরের পুরনো যেসব বাইরের গাড়ি আছে, সেগুলির রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আরও ইলেকট্রিক বাস নামানো হচ্ছে। কলকাতায় সিএনজি বাস নামবে। পরিবহণ ডিপোগুলোকে আমরা অনেক আধুনিক করে তুলেছি।’‌
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইভ প্রকল্প হয়েছে। পরিবহণমন্ত্রী বলেন, ‘‌প্রকল্পের কাজ ভালভাবে চলছে। কিন্তু আমরা দেখেছি দুর্ঘটনায় ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে চালকরা দায়ী। পথ নিরাপত্তার ওপর আমরা ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। পরিবহণ দপ্তরে শারীরিকভাবে অক্ষম ২ হাজার ৩২৫ কর্মী স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। তাঁরা ২০ লক্ষের ওপর অর্থ পেয়েছেন। চুক্তিভিত্তিক চালক ও কন্ডাক্টারদের বেতন বেড়েছে। এখন কন্ডাক্টাররা মাসে পান ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। চালকরা পান ১৫ হাজার টাকা। মাসের ১ তারিখে 
বেতন দেওয়া হয়। এখন ধর্মঘট অতীত হয়ে গেছে। রাজ্য সরকার ধর্মঘট হলে পথে পথে ভোর ৫টা থেকে বাস 
নামিয়ে দেয়।’‌
কেন্দ্রের সমালোচনা করে পরিবহণমন্ত্রী বলেন, ‘‌কেন্দ্র নির্ধারিত ট্রান্সপোর্ট ফি মানা হবে না। আমাদের সরকার জনগণের পাশে ছিল, আছে, থাকবে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‌আমি ১৯৯১ সাল থেকে বিধানসভায় আছি। এই প্রথম পরিবহণ স্ট্যান্ডিং কমিটির ওপর আলোচনা হল।’ অখিল গিরি বলেন, ‘‌সরকারি বাসের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। গতিশীল পরিবহণ ব্যবস্থার ফলে মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। পরিবহণে লোকসান অনেক কমে গেয়েছে।’‌। তৃণমূল বিধায়ক নার্গিস বেগম বলেন, ‘‌বাংলার পরিবহণ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। গ্রাম ও শহরের মধ্যে সরকারি বাসের সুবিধায় মেলবন্ধন ঘটেছে। জলপথ পরিবহণও গতিশীল হয়ে উঠেছে। সরিতা রাইয়ের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পরিবহণমন্ত্রী বলেন, ‘‌কালিম্পঙে একটি ট্রাক টার্মিনাল হবে। দার্জিলিঙে আরও সাজানো–‌গোছানো বাসস্ট্যান্ড হবে।‌’‌‌‌‌
এদিন বিধানসভায় পরিবহণ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির ওপর আলোচনা হয়। স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা বলেন, ‘‌এই প্রথম পরিবহণ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির ওপর আলোচনা হল বিধানসভায়।’‌ রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর বক্তব্য পেশ করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি, নার্গিস বেগম, সরিতা রাই‌, আবদুল খালেক মোল্লাও বক্তব্য পেশ করেছেন। 

জনপ্রিয়

Back To Top