যজ্ঞেশ্বর জানা, খেজুরি: টাকার বিনিময়ে বিজেপি–কে ভোট ট্রান্সফার করেছে সিপিএম। এমনই অভিযোগ তুললেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার খেজুরি ২ ব্লক তৃণমূলের কর্মিসভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে খেজুরির ভোট ফলাফল এভাবে বিশ্লেষণ করেন শুভেন্দু। ভুল, ত্রুটি সংশোধন করে জনসংযোগ তৈরির নির্দেশ দেন স্থানীয় নেতৃত্বদের। বিদ্যাপীঠ স্কুল মাঠে আয়োজিত এই কর্মিসভায় মন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক রণজিৎ মণ্ডল, জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ মধুরিমা মণ্ডল, ব্লক তৃণমূলের সভাপতি বিমান নায়ক প্রমুখ। 
সিপিএমের কায়দায় খেজুরিতে বিজেপি গ্রাম দখলের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে এদিন অভিযোগ করেন শুভেন্দু। বলেন, ‘‌২৩ মে ভোট ফলাফলের পর থেকেই আমাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে, গ্রাম দখলের চেষ্টা চলছে। আমি চাইলে ৭ দিনের মধ্যে সোজা করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমি সেই কাজটা করিনি। কারণ, খেজুরির একাংশ মানুষ নতুন কিছু দেখবেন বলে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি–তে গেছেন। আমি তঁাদের বিজেপি–র রূপ চেনানোর সুযোগ দিয়েছি।’‌ হেঁড়িয়ায় মহিলা ওসি হেনস্থার ঘটনায় বিজেপি–র নিন্দাও করেন মন্ত্রী।’‌ বলেন, ‘‌আমাদের ভোটের হার বেড়েছে। লোকসভায় আমরা ২২টি আসনে জিতেছি। বাংলায় তৃণমূল এক নম্বরেই আছে। তবুও আমাদের অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে। বিজেপি–র বিরুদ্ধে লড়াই সংগঠিত করতে হবে। বাড়াতে হবে জনসংযোগ।’‌
নির্বাচনী পর্যালোচনা ও আগামিদিনের কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে এদিন এই দলীয় কর্মিসভার আয়োজন করেছিল খেজুরি ২ ব্লক তৃণমূল। মূলত বিজেপি–র অত্যাচারের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। ভোট ফলাফল বিশ্লেষণ করে শুভেন্দু জানান, খেজুরি চেনা জায়গা। লোকজনও চেনা। তাই ভোট পুনরুদ্ধারে অসুবিধে হবে না। বলেন, ‘‌লোকসভা নির্বাচন উন্নয়নের ভিত্তিতে হয়নি। ভোট হয়েছে ধর্মীয় মেরুকরণের ভিত্তিতে।’‌ এদিন সরাসরি সিপিএমকে আক্রমণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‌অত্যাচারী সিপিএম গত ৮ বছর ধরে খেজুরিতে গর্তে ঢুকে গেছিল। এবার টাকার বিনিময়ে ওরা পুরো ভোট বিজেপি–তে ট্রান্সফার করেছে।’‌ বলেন, ‘‌অনেক কর্মী যোগ্য সম্মান না পেয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।’‌ তঁাদের যোগ্য সম্মান দিয়ে দলে ফিরিয়ে আনার কথা বলেন তিনি। ভোট পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‌কোনও নেতা, কোনও সাংসদ, কোনও বিধায়ক ঘরছাড়া হননি। হয়েছেন গরিব মানুষ। তা নির্বিঘ্নে বন্ধ হওয়া উচিত। প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের কার্যালয় খুলবে, সভা করবে। মানুষ বেছে নেবেন কোন দল করবেন, করবেন না। এই অধিকার মানুষের আছে।’‌ তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল নতুনভাবে সংগঠিত হচ্ছে এবং হবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই, মানুষের সঙ্গে থেকে উন্নয়ন করা।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top