দীপেন গুপ্ত, পুরুলিয়া: জঙ্গলমহলে এখন শান্তি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি ২০১২ সালের আগে ছিল না। বোমা–গুলিতে অশান্ত ছিল। আর আজ এখানকার মানুষ ঝুমুর, মাদোল ও ছৌ নিয়ে আনন্দে দিন কাটাচ্ছেন। এসব সম্ভব হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির জন্যই। শনিবার পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির বাড়োরিয়া মাঠে তৃণমূলের প্রথম শহিদ প্রধান সিং মুড়ার মৃত্যু বার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি সভায় একথাই স্পষ্ট জানালেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন ওই সভা ঘিরে অযোধ্যা পাহাড়ে ব্যাপক জনসমাগম হয়। সভা মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী প্রধান সিং মুড়ার পরিবারের হাতে ২ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের এক সদস্যকে চাকরি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন। বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‌আমাদের প্রথম শহিদের মৃত্যু দিবসে ৯ তারিখ আসা হয়নি। আমি বলেছিলাম আসব। আজ এত মানুষের সমাগম দেখে আমি অভিভূত। আমরা আমাদের সাথীদের মনে রাখি। প্রধান সিং মুড়ার তৃণমূলের জন্য বলিদানের কথা আমাদের দল সব সময় মনে রাখবে। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্য জুড়ে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা মানুষ দেখেছেন। সিপিএমের আমলে এর একফোঁটাও হয়নি। আমাদের নেত্রী সংস্কৃতি–ঐতিহ্য রক্ষার জন্য কাজ করেছেন। সঁাওতালি ভাষার মর্যাদা দিয়েছেন। আদিবাসী, লোকশিল্পীদের সম্মান দিয়েছেন। কুরমিদের মর্যাদা দিয়েছেন। যে প্রাথমিক, হাইস্কুলগুলিতে যৌথ বাহিনীর শিবির ছিল। আজ সেখানে শান্তির পরিবেশে পড়াশোনা করছে ছাত্রছাত্রীরা। সন্ধের পর জঙ্গলমহলের মানুষ বাইরে বেরতে পারত না। নিত্যদিন খুন–জখম লেগেই থাকত। এখন শান্তিতে রয়েছেন তঁারা।‌’‌
দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন,‌ ‘‌‌আজ, শান্তির পরিবেশে উন্নয়ন হচ্ছে, সেটাকে বাধা দেওয়ায় চেষ্টা করছে বিজেপি। জাতপাত ধর্মের ভিত্তিতে ভোট নিয়ে মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ না করে পেঁয়াজ, পেট্রোলের দাম বাড়ায় আর সংবিধান বদল করে। এদের কাছে মানুষের জন্য উন্নয়ন থেকে বেশি জরুরি দেশের সংবিধান বদল করা। পুরুলিয়া, বঁাকুড়া ও ঝাড়গ্রাম থেকে বিজেপি–র তিন সাংসদ গিয়েছেন, গত ৬ মাসে রাজ্যের জন্য কী এনেছেন?‌ একটা ট্রেনের বগি পর্যন্ত আনতে পারেননি। খড়গপুর, কালিয়াগঞ্জের মানুষ তঁাদের বঞ্চনার জবাব দিয়েছেন। রেশন না দিলে আর ভোট নয়, মানুষ সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন। ভোটের সময় জোট, ঘোট করে ক্ষমতায় আসে। আর মানুষের কাজ করে না। তাই এদের বিশ্বাস না করে উন্নয়নের সঙ্গে থাকুন।’‌ এদিন ওই মঞ্চে ৫০টি বিজেপি পরিবার তৃণমূলে যোগ দেয়।                      

ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top