গৌতম চক্রবর্তী, সুন্দরবন: ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড সুন্দরবনের বেশিরভাগ পর্যটনকেন্দ্রই। আপাতত, বন্ধ সুন্দরবনের জঙ্গল সাফারি। ৯ ও ১০ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সুন্দরবন সাফারি বন্ধ থাকবে বলে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। পর্যটকরা ভেবেছিলেন বুলবুল চলে যাওয়ার পর চালু হবে পর্যটন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব এতটাই ভয়ঙ্কর হয়েছে যার ফলে বিপুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্র ও বন দপ্তরের ক্যাম্প অফিসগুলি। তাই সুন্দরবন ভ্রমণ বন্ধের দিন বাড়িয়ে ১৭ তারিখ পর্যন্ত করা হয়েছে। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত বন দপ্তরের পর্যটন– কেন্দ্র ও ক্যাম্প অফিসগুলিকে তার আগে মেরামতি করা সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন বন আধিকারিকরা। 
বুলবুলের প্রভাবে কোথাও ক্যাম্প অফিসের চাল উড়ে গেছে। কোথাও পর্যটন–কেন্দ্রের গাছ ভেঙে লন্ডভন্ড অবস্থা। সৌরশক্তির বিদ্যুতের সরঞ্জামও নষ্ট হয়ে গেছে। সুন্দরবনের পর্যটন–কেন্দ্রে থাকা বনকর্মী অনেকেই খোলা আকাশের নীচে রয়েছেন বলেও খবর। বন দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, বুলবুল কেঁদো দ্বীপের কাছ থেকে এসে সুন্দরবনের বিভিন্ন ক্যাম্প অফিস ও পর্যটন–কেন্দ্রগুলির ওপর আঘাত এনেছে। তার ফলে লন্ডভন্ড হয়েছে ওই পর্যটন– কেন্দ্রগুলি। তারপর ওই ঝড় রায়মঙ্গল ও হরিণভাঙা নদীর পাশ দিয়ে চলে গেছে বাংলাদেশে। ঝড়টি এই দিক দিয়ে যাওয়ার ফলেই চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুন্দরবনের পর্যটন–কেন্দ্রগুলি ও ক্যাম্পগুলি। রাজ্যের বন আধিকারিকরা জানান, দ্রুত ক্যাম্প অফিসগুলি ও পর্যটন–কেন্দ্রগুলি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যতক্ষণ না সেগুলি স্বাভাবিক ও পেট্রলিংয়ের কাজ শুরু করা যাচ্ছে, ততক্ষণ জঙ্গলে পর্যটনের অনুমতি বন্ধ রাখা হচ্ছে। এদিকে সুন্দরবনে পর্যটনের মরশুম শুরু হয়ে গেছে। তাই বুলবুলের তাণ্ডবের ফলে সুন্দরবন ভ্রমণ বন্ধ হওয়ায় কিছুটা অস্বস্তিতে ভ্রমণ সংস্থাগুলি ও পর্যটকরা। 

জনপ্রিয়

Back To Top