গৌতম চক্রবর্তী‌: প্রাণের চেয়েও প্রিয় ছিল দুই সারমেয়। আদরের দুই পোষ্যকে গুলি করে খুন করে নিজেও বন্দুকের গুলিতে আত্মঘাতী হলেন মালিক। দেনার দায়ে মানসিক অবসাদে এই ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার ভোরে জয়নগরের চরণের নারায়ণীতলার চৌধুরিপাড়ায়। মৃতের নাম শুভঙ্কর রায়চৌধুরি (৪৭)। এদিন ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই গুলির জোরালো আওয়াজে স্থানীয়দের ঘুম ভাঙে। গুলির আওয়াজ শুনে ছুটে আসেন চৌধুরিবাড়িতে। ভেতরে ঢুকে দেখেন মর্মান্তিক দৃশ্য। শুভঙ্কর আর তাঁর দুই পোষ্য সারমেয় রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছে। স্ত্রী স্বামীর মাথা কোলে তুলে নিয়ে বসে কান্নাকাটি করছেন। পাশেই পড়ে রয়েছে একনলা বন্দুক। ঘটনায় হতবাক হয়ে যান প্রতিবেশীরা। জয়নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোল ও একনলা বন্দুক উদ্ধার করেছে। পুলিশ বন্দুকের লাইসেন্স–সহ অন্য কাগজপত্র খতিয়ে দেখছে। পুলিশের অনুমান, প্রচুর পরিমাণ টাকা দেনা হয়ে গিয়েছিল শুভঙ্করবাবুর। শোধ করতে পারছিলেন না। তার জেরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়নগরের নারায়ণীতলা চৌধুরিপাড়ায় জমিদারি প্রথা ছিল। নীতিন রায়চৌধুরির জমিদারি প্রথার রেশ ধরেই এলাকায় নামডাক ছিল। দু’‌বছর আগে নীতিনবাবু মারা যান। ছেলে শুভঙ্কর প্রথমে নিজে অটোর কারবার শুরু করেছিল। ৩টে অটো কিনে লোক–মাধ্যমে চালাতেন। সেই কারবার না চলায় অর্থলগ্নি সংস্থার কাছে অটো ফিরিয়ে দিতে হয়। চরণ থেকে বারুইপুর রুটে অটোচালক হিসেবে শুভঙ্কর ওরফে বাপির পরিচিতি ছিল। কয়েক বছর আগে অটোর কারবার ছেড়ে সব অটো বিক্রি করে পুনেতে চলে গিয়েছিলেন শুভঙ্কর। পরে পুনে থেকে এসে নিজে অটো কিনেছিলেন। যার জন্য প্রচুর দেনা হয়ে গিয়েছিল তাঁর। বুধবার অর্থলগ্নি সংস্থা সেই অটোটি নিয়ে নেয়। অটোর পাশাপাশি কুকুরের ব্যবসাও করছিল শুভঙ্কর। তাতেও তাঁর ক্ষতি হয়েছিল। বাবার একটি বৈধ বন্দুক বাড়িতে ছিল। সেই বন্দুকেই গুলি চালিয়েছেন। স্ত্রী পম্পা জানান, দোতলা বাড়িতে একতলায় শুভঙ্কর কুকুরগুলোকে খাবার দিচ্ছিল। দোতলায় পুজো করছিলাম। ভোর ৫টা নাগাদ জোরালো আওয়াজে নীচে এসে দেখি স্বামী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে। আর দুটি বিদেশি কুকুরও। প্রচুর দেনা হয়ে গিয়েছিল। 

জনপ্রিয়

Back To Top